Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপর্ণা ঘোষ: বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি (Sukumar Upadhyay) থানার কাপিস্টা গ্রামের সাধারণ এক যুবক সুকুমার উপাধ্যায়। দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে শিখেছিলেন অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার মন্ত্র। চরম লড়াই করে পুলিশের চাকরি পান হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে। কিন্তু খাকির চাকরি পেয়েও তিনি ভোলেননি তাঁর শিকড় বা পেটের ক্ষুধার জ্বালা। তাই চাকরি পাওয়ার দিন থেকেই তাঁর লক্ষ্য হয়ে ওঠে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
অসহায়ের পাশে ‘মসিহা’ (Sukumar Upadhyay)
সুকুমারবাবু আজ যেন অসহায় মানুষের কাছে এক ভরসার (Sukumar Upadhyay) নাম। রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা ভবঘুরেদের উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে এনে সেবা-শুশ্রূষা করা এবং তাদের নিজ ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া তাঁর রুটিন কাজের অংশ। শুধুমাত্র রাজ্য নয়, রাজ্যের বাইরে গিয়েও তিনি এই মানুষগুলোকে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছেন। কোভিড মহামারীর ভয়াবহ সময়ে যখন মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরছিল, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।
দৃষ্টিহীনদের বন্ধু এবং ঐতিহ্যের রক্ষক (Sukumar Upadhyay)
সুকুমারবাবুর মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বেশ (Sukumar Upadhyay) বিস্তৃত। দৃষ্টিহীন চল্লিশটিরও বেশি পরিবারের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাদের নিয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার ঠাকুর দেখানো—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন এই পুলিশকর্মী। এমনকি, গত বছর চুঁচুড়ার বন্দে মাতরম ভবনের সামনে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও তিনি করেছেন নিজের পুজোর খরচ বাঁচিয়ে। তাঁর মতে, মনিষীদের মূর্তি খোলা আকাশের নিচে অবহেলায় পড়ে থাকাটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
সরকারি কাজেও সুকুমারবাবুর অবদান অনস্বীকার্য
শুধু আর্তের সেবা নয়, সরকারি কাজেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তারাতলায় গুদাম বিপর্যয় কিংবা রাজ্যের বিভিন্ন সংকটে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে নিয়মিত নিজের একদিনের বেতন দান করে আসছেন। বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে যখন পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে সর্বত্র চর্চা, তখন সুকুমারের এই মানবিক কর্মকাণ্ড নতুন করে আশা জাগাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

আরও পড়ুন: Modi MCG Visit: এমসিজিতে মোদির বিশেষ সফর, তরুণ ক্রিকেটারদের জার্সিতে অটোগ্রাফ
এক অনন্য আদর্শের বার্তাবাহক
সুকুমারবাবুর কথায়, “আমি চাই আমার মতো আরও পুলিশকর্মী ও সমাজের মানুষ যদি পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে সমাজ আরও সুন্দর হবে।” তাঁর বাবার দেখানো পথে চলে তিনি আজও সমাজকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজ বিবেকানন্দের সেই চিরন্তন বাণীকেই মনে করিয়ে দেয়—”জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” এমন পুলিশকর্মীর কর্মযজ্ঞ আগামীর পথে অনেককে অনুপ্রেরণা জোগাবে।


