Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ প্রায় দু’বছরের রক্তক্ষয়ী হিংসা, অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর আপাতত কিছুটা হলেও শান্ত মণিপুর (Manipur)। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েই দ্রুত রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোতে চাইছে বিজেপি। রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক সমাধানের রাস্তা খুঁজতেই তৎপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

দিল্লিতে জরুরি বৈঠক, পর্যবেক্ষক নিয়োগ (Manipur)
সোমবার জরুরি তলবে দিল্লিতে উপস্থিত হন মণিপুরের এনডিএ বিধায়করা। পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন এবং সরকার গঠনের রূপরেখা ঠিক করতেই এই বৈঠক। ওই বৈঠকেই বিজেপির সর্বভারতীয় জেনারেল সেক্রেটারি তরুণ চুগকে মণিপুরের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বার্তা আর সময় নষ্ট নয়, দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ফেরাতে হবে।
মেতেই-কুকি সমীকরণেই শান্তির পথ? (Manipur)
সূত্রের খবর, বিজেপি ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের প্রাথমিক অঙ্ক কষে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের মেতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে সংঘাত এড়াতে নতুন ফর্মুলার কথা ভাবা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী পদে মেতেই সম্প্রদায়ের কাউকে এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পদে কুকি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আনার ভাবনা রয়েছে। এই সমীকরণের মাধ্যমে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং নতুন করে হিংসা ছড়ানো ঠেকানোই লক্ষ্য বিজেপির।

মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে কারা? (Manipur)
মেতেই সম্প্রদায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বিধানসভার স্পিকার সত্যব্রত সিং, প্রাক্তন মন্ত্রী টি এইচ বিশ্বজিৎ সিং, কে গোবিন্দ দাস, তাঁরা সকলেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।, অন্যদিকে কুকি সম্প্রদায় থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী আনার বিষয়ে জোরালো আলোচনা চলছে, যদিও নির্দিষ্ট নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
কুকিদের কড়া বার্তা ও কেন্দ্রের সতর্কতা (Manipur)
কুকি সম্প্রদায়ের তরফে আগেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে সরকারে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকলে সেই সরকার তারা মানবে না। এই হুঁশিয়ারিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শুধু উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নয়, মন্ত্রিসভায় কুকি প্রতিনিধিত্ব কতটা থাকবে, তা নিয়েও চলছে দরকষাকষি।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার প্রস্তাবও আলোচনায় (Manipur)
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই কিছু বিধায়কের তরফে বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে মণিপুরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠন করা হোক, তবে নিজস্ব বিধানসভা বজায় থাকুক। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু তা রাজনৈতিক অচলাবস্থার গভীরতাই তুলে ধরে।
রাষ্ট্রপতি শাসনের শেষ লগ্নে মণিপুর (Manipur)
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, মণিপুর বিধানসভার মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে বিধায়কদের একাংশ চাইছেন, অন্তত এক বছরের জন্য হলেও নির্বাচিত সরকার গঠন করা হোক, যাতে প্রশাসনিক কাজকর্ম স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে।
বীরেন সিংয়ের প্রস্থান ও রাজনৈতিক পালাবদল (Manipur)
২০২৩ সাল থেকে চলা ভয়াবহ হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০-র বেশি মানুষ, ঘরছাড়া হয়েছেন লক্ষাধিক। এই হিংসা থামাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রবল চাপে পড়েন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। ২০২৪-এর শেষ দিনে রাজ্যের নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন। তার পর থেকেই মণিপুর রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে।
আরও পড়ুন: Arijit Singh: লবি রাজনীতি না নতুন প্রজেক্ট? অরিজিতের বাড়িতে গোপনে আমির খান!
শান্তি ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হলেও ক্ষত এখনও গভীর। বিজেপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক ভারসাম্যের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ফিরিয়ে আনা। মেতেই-কুকি সমীকরণে সরকার গঠন আদৌ স্থায়ী সমাধান আনতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে মণিপুরবাসী।



