Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের গৌরবময় ইতিহাসের পিছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। এক প্রজন্মের ত্যাগের ভর করে আরেক প্রজন্মের জয় (Mithali Raj)।
মিতালি তাজের মুখে লড়াইয়ের গল্প (Mithali Raj)
আজ ভারতের মেয়েরা বিশ্বজয়ী। তাঁদের জয়গাঁথা চারদিকে। চুক্তিভিত্তিক বেতন, স্পনসর, সমান ম্যাচ ফি, সবই রয়েছে। কিন্তু ছবিটা শুরুতেই এমন ছিল না। আজকের এই জায়গায় পৌঁছতে অনেকটা কঠিন পথ পার করতে হয়েছে। সেই দিনগুলো ছিল ত্যাগের, দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের। সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথাই আবার মনে করিয়ে দিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ (Mithali Raj)।
২০০৫ সালে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় ভারত। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যে দল খেলেছিল মিতালি রাজ্যের নেতৃত্বে। কিন্তু অবাক করলেও তখন সবার ম্যাচ ফি ছিল মাত্র মাত্র এক হাজার টাকা। অর্থাৎ বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ খেলে হাতে এসেছিল ৮ হাজার টাকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই অবিশ্বাস্য তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তখন কোনও বার্ষিক চুক্তি ছিল না। ম্যাচ ফি-ও ছিল অনিয়মিত। ২০০৫ সালে আমরা রানার্স -আপ হয়েও ম্যাচ প্রতি মাত্র এক হাজার টাকা পেয়েছিলাম।’ মিতালি রাজ আরও বলেন ‘মোট আট ম্যাচ খেলে হাতে এল আট হাজার। এতেই সবাই খুশি ছিল। কারণ আমরা টাকায় নয় আবেগে খেলতাম (Mithali Raj)।’

তখনও মেয়েদের ক্রিকেট BCCI-এর অধীনে আসেনি। আলাদা সংস্থা ছিল। নিজস্বভাবে চালাত এই খেলাকে। কোনও বড় স্পনসর ছিল না। বাজেটও ছিল সামান্য। সাদামাটা হোস্টেল থেকে ট্রেনের জেনারেল কামরা, ভরসা শুধু একববগা ভালবাসা। তিনি বলেন ‘আমরা সাধারণ কামরায় যেতাম নিজেরাই কিট ব্যাগ বইতাম। কোনও বিলাসিতা ছিল না। সংস্থার কাছে টাকাপয়সা ছিল না, আমাদের কীভাবে দেবে?’
তবে ২০০৬ সালে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। মেয়েদের ক্রিকেট ক্রিকেট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয় BCCI-এর সঙ্গে। ধীরে ধীরে বদলায় কাঠামো। আসে চুক্তিভিত্তিক বেতন, আলাদা ট্র্যাভেল অ্যালাউন্স, উন্নত কোচিং ও পরিকাঠামো। এরপর ধাপে ধাপে আসে সম্প্রচার, টিভি উপস্থিতি, আর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। আর সেই পথের শিখরে আজকের ভারত। ২০২২ সালে বিসিসিআই ঘোষণা করে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য সমান ম্যাচ ফি (equal match fees)। এখন মেয়েরা টেস্টে পান ১৫ লক্ষ, ওয়ানডেতে ৬ লক্ষ, আর টি-টোয়েন্টিতে ৩ লক্ষ টাকা, যা ছেলেদের ঠিক সমান।
আরও পড়ুন: Sidharth Malhotra: কী খেয়ে বলিউডে জায়গা করে নিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ মলহোত্রা?
মিতালি, যিনি ২০১৭ সালেও দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন, আজ গর্বের সঙ্গে দেখছেন সেই যাত্রাপথ। বলেছেন, ‘আমরা যে সময় খেলেছি, তখন ক্রিকেট মানেই ছিল লড়াই, সুযোগের, সম্মানের, বেঁচে থাকারও। এখন মেয়েরা পেশাদার অ্যাথলিট। তাঁদের সামনে আছে দিশা, নিরাপত্তা, প্রাপ্য সম্মান।’ এক হাজার টাকার ম্যাচ ফি থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ের এই গৌরবময় অধ্যায়। এটাই আসলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের সত্যিকারের গল্প। এক প্রজন্মের ত্যাগ, আরেক প্রজন্মের জয় এভাবেই লেখা থাকবে জয়ের ইতিহাস (Mithali Raj)।


