Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে হিন্দু সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে অভিন্ন করে দেখিয়েছেন (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, যতদিন ভারতের মানুষ তাদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষদের গৌরবকে স্মরণ ও উদযাপন করবে, ততদিন ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে। এই বক্তব্যে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ধারণাটি কোনও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি চিরন্তন সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বলে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি তুলনা টেনে বলেন, যেমন সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে এই সত্যের জন্য কোনও সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না তেমনই ভারতের হিন্দু রাষ্ট্র হওয়াটাও একটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য। তাঁর ভাষায়, যতক্ষণ পর্যন্ত এমন একজন মানুষও ভারতের মাটিতে বাস করবেন যিনি তাঁর সনাতনী পূর্বপুরুষদের গৌরবে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন, ততক্ষণ ভারত হিন্দু রাষ্ট্রই থাকবে।

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ (Mohan Bhagwat)
ভাগবত সরাসরি ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে বিতর্কে না গেলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংসদ যদি কখনও সংবিধান সংশোধন করে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বা না নেয় তা RSS-এর কাছে গৌণ বিষয়। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র সংসদের আইন বা সংশোধনের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সমাজের আত্মপরিচয়ের উপর নির্ভর করে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে RSS সংবিধান পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে নেই; বরং সমাজের সাংস্কৃতিক চেতনার মধ্যেই তারা ভারতের রাষ্ট্রীয় পরিচয় খুঁজে পায়।

হিন্দুত্ব ও বর্ণব্যবস্থা (Mohan Bhagwat)
ভাগবত তাঁর ভাষণে হিন্দুত্ব ও বর্ণব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জন্মের উপর ভিত্তি করে বর্ণব্যবস্থা হিন্দুত্বের বৈশিষ্ট্য নয়। অর্থাৎ, তাঁর মতে, হিন্দুত্ব কোনও সংকীর্ণ সামাজিক বিভাজনের প্রতীক নয়, বরং একটি বিস্তৃত সাংস্কৃতিক ও নৈতিক দর্শন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে RSS প্রধান সেই প্রচলিত অভিযোগের জবাব দিতে চেয়েছেন, যেখানে হিন্দুত্বকে অনেক সময় জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: শুধু দল নয়, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হুমায়ুনের…
ভারতীয় সংস্কৃতি
RSS-এর শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এই ভাষণে মোহন ভাগবত ভারতীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বিদেশি ভাষার পরিবর্তে মাতৃভাষার ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর মতে, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের বাহক। মাতৃভাষায় চিন্তা ও শিক্ষার প্রসার ঘটলে জাতীয় সংস্কৃতি আরও দৃঢ় হবে। এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষানীতি ও সাংস্কৃতিক আত্মনির্ভরতার ধারণার সঙ্গে মিল খুঁজে পায়।



