Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ, নতুন জার্সি, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপচে পড়া সবুজ-মেরুন সমর্থকদের ভিড় (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)। প্রত্যাশা ছিল দাপুটে ফুটবলের পাশাপাশি সহজ জয় তুলে নেবে মোহনবাগান। কিন্তু সেই জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হল ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট, মাঝমাঠের ছন্নছাড়া ফুটবল এবং বিশাল কাইথের একাধিক অসাধারণ সেভের পর অবশেষে চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পেল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করলেন মনবীর সিং। তবে তিন পয়েন্ট এলেও মোহনবাগানের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। কোচ প্যানোস কি এই ম্যাচ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেবেন? আরউইন ও সমীরদের এমন ফুটবলে দীর্ঘ লিগের লড়াইয়ে কতটা সফল হবে সবুজ-মেরুন?
প্রথমার্ধে সুযোগ নষ্টের ঝড় (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
আইএসএলে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নামার আগে থেকেই কিছুটা চিন্তায় ছিলেন মোহনবাগান কোচ প্যানোস। প্রথম একাদশে ছিলেন না আপুইয়া ও মিগুয়েল। চোটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে জেমি ম্যাকলারেন। ফলে আক্রমণভাগে গোল করার মতো বিকল্প নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই সমস্যার ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন জার্সিতে মাঠে নামলেও মোহনবাগানের খেলায় নতুনত্বের ছাপ ছিল না।

চেন্নাইয়িনের বক্সে বারবার পৌঁছেও গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। দশ মিনিটের মাথায় আলবার্তোর শট সেকেন্ড বারের পাশ দিয়ে উড়ে যায়। এরপর ডেজন ড্রাজিচও সুযোগ নষ্ট করেন। লি আরউইনের শট কোনওক্রমে আটকে দেন চেন্নাইয়িন গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ। ফিরতি বল পেয়েও জালে জড়াতে পারেননি মনবীর সিং। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে চেন্নাইয়িনের একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ সামাল দিতে হয় মোহনবাগানকে। বিশাল কাইথের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে বিরতির আগেই পিছিয়ে পড়তে পারত সবুজ-মেরুন শিবির।
দ্বিতীয়ার্ধেও রক্ষাকর্তা বিশাল (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ছবিটা খুব একটা বদলায়নি। তালাল ও নিকোলার আক্রমণের সামনে বারবার পরীক্ষার মুখে পড়ে মোহনবাগানের রক্ষণ। ইদওয়দের শটও দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন বিশাল কাইথ।

বদলে গেল মাঝমাঠ (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিবর্তনের পথে হাঁটেন প্যানোস। ছাংতের পরিবর্তে সাহাল এবং সমীরের জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপাকে নামানো হয়। তাতে মাঝমাঠের খেলায় কিছুটা গতি ও সংঘবদ্ধতা দেখা গেলেও গোলের খরা কাটছিল না। লি আরউইনের জায়গায় অন্য কাউকে নামিয়েও কি আক্রমণে ধার বাড়ানো সম্ভব ছিল? সেই প্রশ্নও উঠে আসে। কারণ, একের পর এক আক্রমণ গড়েও গোলের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ ছিল মোহনবাগান। উলটে ৭৭ মিনিটে নিকোলার দূরপাল্লার জোরালো শট বারে লেগে ফিরে আসে। সেই শট জালে জড়ালে ম্যাচের ছবিটাই বদলে যেতে পারত। এরপরও বিশাল কাইথের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ মোহনবাগানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

মনবীরের গোলে স্বস্তি (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
অবশেষে ৮৫ মিনিটে বহুপ্রতীক্ষিত গোলের দেখা পায় মোহনবাগান। বাঁদিক থেকে লিস্টন কোলাসোর বাড়ানো ক্রসের গতিপ্রকৃতি বুঝে নিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যান মনবীর সিং। চেন্নাইয়িন গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজের উচ্চতাজনিত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ভারতীয় স্ট্রাইকার। গোল হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে যুবভারতী। তবে সেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মিশে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তির নিঃশ্বাসও।

গোল পাওয়ার পরও ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় চেন্নাইয়িন। সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে অল্পের জন্য হলেও তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান।
তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
এই জয়ের পর তিন ম্যাচে মোহনবাগানের সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট। পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এল সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু জয় পেলেই যে দলের সমস্ত সমস্যা মিটে যায় না, এই ম্যাচে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ—একাধিক জায়গায় বোঝাপড়ার অভাব চোখে পড়েছে। অকারণে ব্যাক পাস ও সাইড পাস খেলে বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা যে কঠিন, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কোচের।
প্রশ্ন রইল পারফরম্যান্স নিয়ে (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)
আলবার্তো রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মেহতাব ও রাহুল ভেকের মধ্যে বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Mohun Bagan vs Chennaiyin FC)। দীপক টাংরির খেলাতেও প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। অন্যদিকে, লি আরউইনের পারফরম্যান্সও ধারাবাহিকভাবে হতাশ করছে। আক্রমণে সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলিকে গোলে পরিণত করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রকট। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা চোট কাটিয়ে ফিরলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে ঠিকই, কিন্তু তার আগে বর্তমান দলকে নিয়েই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে প্যানোসকে।
আরও পড়ুন: U15 World Cup: ফের ভারতের জয়, বাহরিনকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বিবিয়ানোর ছেলেরা
জয় এল, তিন পয়েন্টও এল। কিন্তু মোহনবাগানের খেলার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। দীর্ঘ লিগের লড়াইয়ে শুধু শেষ মুহূর্তের গোলে জয় তুলে নিলেই চলবে না। দলকে আরও সংঘবদ্ধ হতে হবে, আক্রমণে বাড়াতে হবে ধার এবং রক্ষণেও কমাতে হবে ভুল। নইলে এই জয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যতে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে পারে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।



