Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জুনের মাঝামাঝি পৌঁছেও ভারতের বহু এলাকায় বর্ষার দেখা নেই। ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে, জলসংকট তীব্র হচ্ছে এবং কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে(Monsoon India)।
বর্ষা আসার কথা ছিল ৪ জুনেই (Monsoon India)
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) আগে জানিয়েছিল, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ৪ জুনের মধ্যে কেরলে প্রবেশ করবে। কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে।
ইউরোপের মেটিওস্যাট, মার্কিন সংস্থা NOAA এবং ইসরোর ইনস্যাট-3DS উপগ্রহের সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা গেছে, মধ্য, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্ষার স্বাভাবিক ঘন মেঘের অনুপস্থিতি।
কেন থমকে গেল মৌসুমি বায়ু?
আবহাওয়াবিদদের মতে, এর পিছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে
প্রথমত, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে বারবার শুষ্ক বায়ুর প্রবেশ মেঘ গঠন ও বৃষ্টিপাতকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
দ্বিতীয়ত, শক্তিশালী সোমালি জেট গড়ে ওঠেনি। এই বায়ুপ্রবাহ সাধারণত ভারত মহাসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা ভারতে নিয়ে আসে।
তৃতীয়ত, এল নিনো-র প্রভাব। এল নিনো সাধারণত ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিকে দুর্বল করে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল (IOD) নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকায় অতিরিক্ত সহায়তাও মিলছে না।
বৃষ্টির ঘাটতি কত? (Monsoon India)
৪ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দেশে যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৫৩.৭ মিমি, সেখানে হয়েছে মাত্র ১৯.২ মিমি। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। মহারাষ্ট্রে বৃষ্টির ঘাটতি ৭৯ শতাংশ, গুজরাতে ৯৮ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ শতাংশ এবং ছত্তিশগড়ে ৬৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন: QS World University: ভারতসেরা IIT দিল্লি, এশিয়ায় এগিয়ে চিনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি
কবে মিলবে স্বস্তি? (Monsoon India)
জলাধারগুলিতে জলস্তর দ্রুত কমছে। মুম্বইয়ে জল সরবরাহে কাটছাঁটও শুরু হয়েছে। IMD-এর মতে, অন্তত ২৪ জুন পর্যন্ত বর্ষা কার্যত স্থবির থাকবে। এরপর কনকন উপকূলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আগামী সপ্তাহে কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে। তবে আপাতত দেশজুড়ে বর্ষার অপেক্ষাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।



