Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে ঘিরে ফের বিতর্ক (Muhammad Yunus)। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, বিশেষত হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রশাসনকে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এবার বিদেশের মাটিতেও সেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেল বলে দাবি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তাঁকে লক্ষ্য করে উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। এমনকী, বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলেন।
বিমানবন্দরে ঘিরে বিক্ষোভ, উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন মহম্মদ ইউনুস। হুইলচেয়ারে বসে টার্মিনাল ৮ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন একদল বিক্ষোভকারী। তাঁদের মধ্যে আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাঁদের মধ্যে একজন ইউনুসকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি একজন জঙ্গি। আপনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে খুন করেছেন। এখানে এসেছেন কেন বলুন?” যদিও এই বক্তব্য বিক্ষোভকারীদের অভিযোগমাত্র, এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীরা ইউনুসকে বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে যান।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন (Muhammad Yunus)
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্বে আসেন মহম্মদ ইউনুস। তাঁর আমলে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনাগুলি নিয়ে বাংলাদেশে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন ওঠে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তাঁর সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জমেছিল। তবে ওই সময়ের সমস্ত হিংসার জন্য সরাসরি ইউনুসকে দায়ী করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা জরুরি।
ক্ষমতা ছাড়ার পরেও কি কমেনি ক্ষোভ? (Muhammad Yunus)
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধ্যায় শেষ হয়। কিন্তু তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক যে এখনও অব্যাহত, নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরের এই বিক্ষোভ সেই প্রশ্নই সামনে আনছে।
আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের নাগরিকদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়া প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার জন্য নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তবে এই বিক্ষোভকে গোটা বাংলাদেশি সমাজের মতামত হিসেবে দেখা যায় না। বরং এটি ইউনুসের প্রশাসনিক ভূমিকা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কেরই একটি প্রকাশ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন যে সহজে মুছে যায় না, নিউ ইয়র্কের এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



