Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভাঙড় কেন্দ্র এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে (Nawsad Siddique)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র জয় এসেছিল এই কেন্দ্র থেকে, সেখানে আবারও ২০২৬-এর নির্বাচনে নজর ঘুরে এসেছে ভাঙড়ের দিকে। এই কেন্দ্র থেকেই পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী যিনি একাধারে ভারতীয় সেক্যুলার ফ্রন্ট-এর চেয়ারম্যান এবং রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক মুখ।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Nawsad Siddique)
২০২১ সালের নির্বাচন ছিল নওশাদ সিদ্দিকীর জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। নতুন দল, সীমিত সংগঠন এবং তৃণমূল-বিজেপির শক্তিশালী দ্বিমুখী লড়াইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু পাঁচ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে। সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বেড়েছে, এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও অনেক পরিণত। তাই ২০২৬-এর নির্বাচনে তাঁর আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট তিনি আর জয়ের চিন্তা করছেন না, বরং জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছেন।
উন্নয়নের দাবি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা (Nawsad Siddique)
ভাঙড়ের উন্নয়ন নিয়ে নওশাদ দাবি করেছেন, তিনি তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। রাস্তা, আলো, স্থানীয় পরিষেবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ এগিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকেও আঙুল তুলেছেন, রাজনৈতিক উদ্যোগ থাকলেও প্রশাসনিক বাস্তবায়নে ঘাটতি, কাজের কৃতিত্ব অন্যদের ঝুলিতে চলে যাওয়া, এই দ্বন্দ্বই উন্নয়নের গতিকে প্রভাবিত করছে বলে তাঁর মত।

অপরাধমুক্ত ভাঙড় (Nawsad Siddique)
এই নির্বাচনে তাঁর প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় বার্তা ভাঙড় অপরাধের জায়গা নয়, বরং শান্তিপ্রিয় মানুষের বাসভূমি। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ভাঙড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে “বোমা-বন্দুকের এলাকা” হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু বাস্তবে এখানকার মানুষ, কৃষিকাজে যুক্ত, দিনমজুর, ছোট শিল্পে কর্মরত, এই মানুষদের ওপর সহিংসতার তকমা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মাত্রা (Nawsad Siddique)
ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যুতে নওশাদ সিদ্দিকী সরব হয়েছেন। তিনি সরাসরি আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত আন্দোলন দমাতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতা এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যদি চাইত, তাহলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না।
জোট রাজনীতির সমীকরণ (Nawsad Siddique)
২০২১ সালে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং ISF মিলে গড়ে উঠেছিল সংযুক্ত মোর্চা। কিন্তু ২০২৬-এ সেই জোটে কংগ্রেস নেই। নওশাদ স্বীকার করেছেন, এতে মানুষের perception কিছুটা কমেছে, জোটের শক্তি আগের তুলনায় দুর্বল মনে হচ্ছে, তবে তিনি আশাবাদী যে বাম ও ISF একত্রে লড়াই করে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে।
জোটের ভাঙন ও সমন্বয়ের অভাব
রাজ্যের কিছু আসনে বাম ও ISF-এর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নওশাদ জানিয়েছেন, তাঁরা সীমিত আসনে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং “ফ্রেন্ডলি ফাইট” এড়াতে চেয়েছিলেন। তবে সব জায়গায় সেই সমন্বয় বজায় রাখা সম্ভব হয়নি যার দায় তিনি জোট নেতৃত্বের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
বদলের ডাক
ভাঙড় মানেই সহিংসতা, এই ধারণাকে ভেঙে দিতে চাইছেন নওশাদ। তাঁর মতে, ভাঙড়ের মানুষ শান্তিপ্রিয়, রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু মানুষ সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করে, সাধারণ মানুষ সেই রাজনীতির সঙ্গে একমত নয় এই নির্বাচনে তিনি এটিকে “গোল্ডেন চান্স” হিসেবে দেখছেন, ভাঙড় নিজের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরতে পারে।



