Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রস্তাবিত গালাথিয়া বে আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট প্রকল্পকে ঘিরে “পরিবেশগত বিপর্যয়” আশঙ্কা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে(Nicobar Project)। তবে সমালোচনার অনেকটাই অতিরঞ্জিত এবং পুরনো তথ্যভিত্তিক এমনই দাবি উঠছে একাংশের পক্ষ থেকে।
টার্মিনাল তৈরিতে ভারতের সুবিধা (Nicobar Project)
গ্রেট নিকোবরের দক্ষিণ প্রান্তে ইন্দিরা পয়েন্টের কাছে গালাথিয়া বে অবস্থিত, যা মালাক্কা প্রণালীর মুখে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালী ভারত মহাসাগরকে দক্ষিণ চিন সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন পথ। এখানে একটি আধুনিক ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল গড়ে উঠলে ভারত শুধু কূটনৈতিক নজরদারিই বাড়াতে পারবে না, বরং বিদেশি বন্দরগুলোর উপর নির্ভরতাও কমবে। বর্তমানে ভারতীয় কার্গো সিঙ্গাপুরের মতো বন্দরে স্থানান্তরিত হওয়ায় বছরে প্রায় ২৩ কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে অনুমান।
নিয়ম মেনেই অনুমোদন
প্রকল্পের বিরোধিতায় পরিবেশ ও আদিবাসী সুরক্ষার প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, বনাধিকার আইনসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নিয়ম মেনেই অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শোমপেন ও নিকোবারি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত ছিলেন। শোমপেনরা মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে, যা প্রকল্পস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরে ফলে সরাসরি স্থানচ্যুতির সম্ভাবনা কম।
গাছ কাটার সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি (Nicobar Project)
গাছ কাটার সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। যেখানে কিছু রিপোর্টে ৫০ লক্ষের বেশি গাছ কাটার কথা বলা হয়েছে, স্থানীয় অনুমান তা অনেক কম। একইসঙ্গে প্রকল্পের অংশ হিসেবে পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি (INS Baaz সম্প্রসারণ) এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Mamdani Kohinoor: মামদানির কোহিনূর ফেরানোর দাবি: প্রতীকী নাকি গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত?
উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য (Nicobar Project)
সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পকে একদিকে যেমন পরিবেশ ও আদিবাসী সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিয়ম মেনে এবং ক্ষতি কমিয়ে এগোলে উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব।



