Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার প্রায় আট দশক পরও বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা থামেনি। বরং অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকীকরণে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে(Nuclear Arms Race)।
পরমাণু অস্ত্র খাতে ব্যয় বাড়ছে (Nuclear Arms Race)
২০১৭ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)-এর নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ সম্মিলিতভাবে ১১৮.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
প্রতি সেকেন্ডে ব্যয় বৃদ্ধি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,৭৬৮ ডলার ব্যয় হয়েছে। গত পাঁচ বছরে (২০২১-২০২৫) মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭১ বিলিয়ন ডলারে।
তালিকায় প্রথমে আমেরিকা
সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে আমেরিকা। দেশটি ২০২৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ৬৯.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন, তাদের ব্যয় ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য (১২.৬ বিলিয়ন), রাশিয়া (৯.৫ বিলিয়ন) এবং ফ্রান্স (৭.৭ বিলিয়ন ডলার)।
তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে ভারত
ভারত এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারত পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার বা ২৪৬.৭ বিলিয়ন রুপি ব্যয় করেছে। পাকিস্তানের ব্যয় ছিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার, ইসরায়েলের ১.২ বিলিয়ন ডলার এবং উত্তর কোরিয়ার ৬৫৬ মিলিয়ন ডলার।
ব্যয় বইবে পরবর্তী প্রজন্মও(Nuclear Arms Race)
আইসিএএনের দাবি, বর্তমানে যে পারমাণবিক প্রকল্পগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আগামী কয়েক দশক কার্যকর থাকবে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এই ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে।
বড় প্রতিষ্ঠানের মুনাফা লাভ (Nuclear Arms Race)
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বড় মুনাফা করছে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে অন্তত ২৫টি কোম্পানি পারমাণবিক অস্ত্র-সম্পর্কিত চুক্তি থেকে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, হানিওয়েল ও জেনারেল ডায়নামিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী।



