Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার রণক্ষেত্র কলকাতার ধর্মতলা (Kolkata Protest)। শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ পুলিশের। আক্রান্তের শিকার সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। এই ঘটনায় এবার ৬ মামলা দায়ের। ডোরিনা ক্রসিং বিক্ষোভ ঘিরে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু পুলিশের। অজ্ঞাত জনতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর।
তিলোত্তমার বিশৃঙ্খলা (Kolkata Protest)
ডোরিনা ক্রসিং, শহর কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা। যেখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফেরেন, সেই চত্বরই সাড়ে তিন ঘণ্টার জন্য পরিণত হল রণক্ষেত্রে। বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর (DYFI, AISA, AIDSO ইত্যাদি) যৌথ মিছিলে হঠাৎই উত্তেজনা। ভাঙল ট্রাফিকের স্বাভাবিক ছন্দ, ভোগান্তির শিকার নিত্যযাত্রীরা।
আরও পড়ুন: MLA Protest: সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ, কালো ব্যাজ পরে মিছিল বিধায়কদের
অভিযোগ, পুলিশের অনুমতি ছাড়াই দুপুর ২টো নাগাদ ডোরিনা ক্রসিংয়ে জমায়েত হন শয়ে শয়ে আন্দোলনকারী। মাইকের বিকট আওয়াজে উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, মাইকে বারবার এলাকা খালি করার অনুরোধ জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা শোনেননি। উল্টে ব্যারিকেড ভেঙে ধেয়ে আসেন বিক্ষোভকারীরা।
মিছিল শেষে হামলা! (Kolkata Protest)
পরমুহূর্তেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশ, কর্মরত সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে শুরু হয় জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর বৃষ্টি। কর্তব্যরত বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও সাংবাদিক রক্তাক্ত হন। সামাল দিতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় এবং জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ঝামেলার পর ধর্মতলার রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় শয়ে শয়ে জুতোর জোড়া, প্লাস্টিকের বোতল আর ইটের টুকরো। দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ হয়ে থাকে জওহরলাল নেহরু রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ। এর জেরে অফিস ফেরত সাধারণ মানুষকে চরম বিপাকে পড়তে হয়।
৬ মামলা দায়ের (Kolkata Protest)
এই ঘটনায় লালবাজারের তরফ থেকে মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট থানায় পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Suo-motu Case) দায়ের করেছে (মামলা নম্বর ১৫২/২৪/জুলাই)। নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় অজ্ঞাতপরিচয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই কেস রুজু করা হয়। রাজনৈতিক দাবিদাওয়া আর পুলিশের লাঠিচার্জের মাঝে শেষপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খেসারত দিতে হল শহরবাসীকে।



