Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : শনিবার বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিংহ(Operation Sindoor)। তিনি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বায়ুসেনা অন্তত ছ’টি পাকিস্তানি বিমান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি বড় সামরিক বিমান রয়েছে। ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির পর এত দিন পরে এই প্রথম এমন একটি তথ্য প্রকাশ্যে আনল ভারতীয় বায়ুসেনা।
সংঘর্ষের পটভূমি (Operation Sindoor)
ঘটনার সূত্রপাত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে। ওই ঘটনায় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চিহ্নিত জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে নিশানা করে ভারতীয় সেনা হামলা চালায়(Operation Sindoor)। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই সময়ে পাকিস্তানের কোনও সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা হয়নি। তবে ভারতের অভিযানের পরে পাকিস্তান পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ভারতীয় বায়ুসেনাও তীব্র আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষের আবহে চার দিন ধরে চলেছিল তীব্র সামরিক উত্তেজনা।
পাকিস্তানি বিমান ধ্বংসের বিবরণ (Operation Sindoor)
অমরপ্রীত সিংহ জানান, “অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করেছি আমরা। এছাড়া একটি বড় সামরিক বিমানও নামানো হয়। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে হামলা চালানো হয়েছিল।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি ভূমি থেকে আকাশে আক্রমণ চালিয়ে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রেকর্ড।
‘এস-৪০০’-এর ভূমিকা (Operation Sindoor)
বায়ুসেনা প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, ছ’টি পাকিস্তানি বিমানই ধ্বংস করা হয়েছে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৪০০’ ব্যবহার করে(Operation Sindoor)। এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার তৈরি। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাফল্যকে কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও অস্ত্র কেনায় অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রশাসন বহুবার ভারতের প্রতি আপত্তি জানিয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কড়া মন্তব্য করেছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নয়াদিল্লির উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন।

পাকিস্তানের ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি (Operation Sindoor)
অমরপ্রীত সিংহ আরও জানান, এই ছ’টি বিমান ধ্বংস ছাড়াও পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি আকাশপথে আক্রমণের সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে(Operation Sindoor)। বিশেষ করে পাকিস্তানের জাকোবাবাদ ঘাঁটির কথা তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য হ্যাঙ্গার ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ওই হ্যাঙ্গারের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমি নিশ্চিত, ভিতরে থাকা কিছু বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গ (Operation Sindoor)
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আমেরিকার তৈরি এবং পাকিস্তান (Shehbaz Sharif) আমেরিকা থেকেই এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিন্টন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে এফ-১৬ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়। ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির পরে পাকিস্তানের এফ-১৬ নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধানের মন্তব্য তাই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ, বিশেষত আমেরিকা থেকে কেনা উন্নত যুদ্ধবিমান, ভারতীয় আক্রমণে আংশিক বা পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: Israel Hamas Conflict : গাজা দখল নয়, হামাস নির্মূল ও শান্তিপূর্ণ প্রশাসনের লক্ষ্য নেতানিয়াহুর
কূটনৈতিক বার্তা (Operation Sindoor)
রাশিয়ার তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে পাকিস্তানি বিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ ভারত শুধু সামরিক সাফল্যের বার্তাই দিচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট করছে(Operation Sindoor)। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত যে রাশিয়ার উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে, সেটি সরাসরি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হলো।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঘটনা প্রমাণ করে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী হতে পারে। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের বিমান ধ্বংস করা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, এটি শত্রুপক্ষের মনোবলেও বড় আঘাত। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, ভারতীয় বায়ুসেনা শুধু আক্রমণাত্মক সামর্থ্যেই নয়, প্রতিরক্ষাতেও সমান শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিকভাবে, এই সাফল্য রাশিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে, যদিও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।


