Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত আধুনিক ব্যস্ত জীবনে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে (Physical fitness)। সারাদিনের মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ। চিকিৎসকেরা বলেন, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, আবার মাঝেমধ্যেই ঘুম ভেঙে যায়। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তবে তা হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক অস্থিরতার মতো সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আয়ুর্বেদে ঘি (পরিশুদ্ধ মাখন) ঘুমের সমস্যার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শুধু রান্নার উপাদান হিসেবে নয়, বরং ওষুধ এবং জীবনধারার অংশ হিসেবেও ঘিয়ের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে।
ঘুমের ক্ষেত্রে কীভাবে সাহায্য করে? (Physical fitness)

- স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে (Physical fitness)
ঘিয়ের প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। রাতে শোওয়ার আগে পায়ের তলায় হালকা মালিশ করলে শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হয় এবং মস্তিষ্কেও প্রশান্তির সঞ্চার হয়। এতে গভীর ঘুম আসতে সহজ হয়। - রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
ঘি দিয়ে পায়ের পাতায় ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে। শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ক্লান্তি কমে যায় এবং ঘুমের গুণগত মান ভালো হয়। - ঘিয়ের ল্যাম্প এর উপকারিতা
- ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালালে ঘরে একটি প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
- মৃদু আলো ও ঘিয়ের সুবাস মস্তিষ্ককে শিথিল করে।
- অনেকের মতে, এটি নাক ডাকার সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।
- ফুসফুসের জন্য উপকারী
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী ঘি ফুসফুসকে শক্তিশালী করে। যারা শ্বাসকষ্ট বা শুষ্ক কাশি সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি উপকারী। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকলে ঘুমও আরামদায়ক হয়। - হজমশক্তি উন্নত করে
ঘি খাবারের হজমে সাহায্য করে। রাতে বদহজম বা অম্বল থাকলে ঘুম ভাঙতে পারে। রোজ সকালে ঈষদুষ্ণ জলে এক চামচ ঘি খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত হয় না।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ঘি (Physical fitness)
ঘি শুধু ঘুমই নয়, শরীরের আরও অনেক সমস্যার সমাধান করে। এতে রয়েছে—
- ভিটামিন A, D, E এবং K → হাড়, চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য।
- হেলদি ফ্যাটি অ্যাসিড → মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট → কোষকে মেরামত করে এবং বার্ধক্য ধীর করে।
ঘি ব্যবহারের উপায়
- ঘুমের আগে (Physical fitness)
- এক চামচ ঘি গরম দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন।
- পায়ের তলায় ঘি মালিশ করে মোজা পরে শুয়ে পড়তে পারেন।
- দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে
- গরম ভাত বা রুটি সঙ্গে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে হজম ভালো হয়।
- অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করলেও একই উপকারিতা পাওয়া যায়।
- ঘিয়ের ল্যাম্প জ্বালানো
- শোবার ঘরে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালালে শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
- এতে মানসিক চাপ কমে এবং দ্রুত ঘুম আসে।
আরও পড়ুন : Mayanmar Election : গণতন্ত্র ফিরতে চলেছে মায়ানমারে! ডিসেম্বরেই হবে ভোট, ঘোষণা জুন্টার
সতর্কতা
- যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত ওজন সমস্যা আছে, তারা ঘুমের সমস্যায় ঘি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
- ঘি খাওয়ার পরিমাণ দিনে ১–২ চামচের বেশি নয়। অতিরিক্ত সেবনে ওজন বেড়ে যেতে পারে।


