Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বকাপে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অভিশাপ রোনাল্ডো? তারকাকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ (Cristiano Ronaldo)।
মেসির হ্যাটট্রিকের পর ‘ব্যর্থ’ রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)
ফুটবল বিশ্বকাপে যেমন দলগুলি নিয়ে উন্মাদনা রয়েছে তেমন উন্মাদনা রয়েছে প্লেয়ারদের নিয়ে। আর সেই চর্চায় অন্যতম দুটি নাম মেসি এবং রোনাল্ডো। মেসি তাঁর নিজের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছেন। এরপরের ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্ডো আর ভক্তরা আশা করছিলেন রোনাল্ডো ম্যাজিকও দেখা যেতে চলেছে কিন্তু সেটা হল না। কার্যত নিষ্প্রভ দেখাল সিআর ৭-কে (Cristiano Ronaldo)।
অনেকেই বলছেন এই ম্যাচ সাক্ষী থাকল রোনাল্ডোর ‘ফ্লপ’ শো-র। বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে রীতিমত হিমশিম খেতে দেখা গেল রোনাল্ডোকে। তবে এটা সবার জানা যে পর্তুগাল দলের অন্যতম প্রধান মুখ রোনাল্ডো। তিনি ম্যাচে জ্বলে উঠলেই সেই ম্যাচের রং পাল্টে যেতে সময় নেবে না। বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে তাঁর করা হ্যাটট্রিক নিয়ে এখনও চর্চা চলে। সেই রোনাল্ডোকে নিয়েই এবার তৈরি হয়েছে জল্পনা। তবে কি বয়সের কারণে নিজের ফর্ম খুঁজে পাচ্ছেন না এই তারকা?
টেক্সাসে এই দিন রোনাল্ডোকে দেখা যায় নতুন ভূমিকায়। এই ম্যাচে তাঁর ২৫টি টাচের মধ্যে গোল লক্ষ্য করে একটিও শট এল না। সেটা যে কোন স্ট্রাইকারের কাছে লজ্জার আর সেটা যদি রোনাল্ডো হন তবে ফুটবলপ্রেমীরা সেটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। কিন্তু তিনি আধুনিক কেন ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা আর তাঁর কাছ থেকে এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এমনকি মেসি নিজের প্রথম ম্যাচের পরও রোনাল্ডোকে সর্বকালের সেরাদের মধ্যে অন্যতম বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
এই ম্যাচে পর্তুগাল শুরুটা করে ভাল করে। শুরুতেই নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় দল। কিন্তু মাঝ মাঠ নিয়ে একদমই খুশি হওয়ার জায়গা নেই কারণ মাঝে মাঝেই খেয়ে হারাতে দেখা যায় ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্ড সিলভা, ভিটিনহারদের। অনেক সময় রোনাল্ডো পাসও পাননি ঠিক মত। একদিকে যেমন মেসি নিজের বয়সের কথা ভেবে দক্ষতার পাশাপাশি নিজের বুদ্ধিও কাজে লাগিয়েছিলেন বারবার এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফাঁকা জায়গার দিকে আর সেই কারণে তাঁর সতীর্থদের তাঁকে খুঁজে পেতে অসুবিধা হয়নি এবং সঠিক পাস পেয়েছেন। কিন্তু রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে সেটা বারবার উল্টো দেখা গেছে। ঠিক মত পাসই পেলেন না এই অন্যতম সেরা (Cristiano Ronaldo)।
পরিসংখ্যান দেখলে সেটা আরও স্পষ্ট হয়। প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ২০০ পাস বেশি খেলে পর্তুগাল। কিন্তু একটাও ঠিক মত ফিনিশ করতে পারেননি তাঁরা। নৈপুণ্যের অভাবও দেখা গেছে এই দিন। এই সব অনেক কারণের জন্য কঙ্গোর মত খাতায় কলমে দুর্বল টিমের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেই নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হল পর্তুগালকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বর্ষীয়ান ফুটবলার হিসেবে ম্যাচ শুরু করার রেকর্ড করেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ তারকার বয়স ৪১ বছর ১৩২ দিন। কানাডার আতিবা হাচকিনসনের রেকর্ড ভাঙেন সিআর ৭। তাঁর কাছে বয়স সংখ্যামাত্র। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটা সফল নাও হতে পারে আর এই দিন ছিল তেমনই একটা হতাশার দিন (Cristiano Ronaldo)।
কেরিয়ারের শুরুতে উইঙ্গার ছিলেন সিআর সেভেন। গতি এবং শারীরিক ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তবে গত কয়েক বছরে মূলত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। বর্তমান পর্তুগাল দলে, মাঝমাঠে নেমে দলকে বিল্ড আপে সাহায্য করেন না। একমাত্র লক্ষ্য গোল করা। কিন্তু বিশ্বকাপ এবং ইউরোর শেষ ১০টি ম্যাচে গোল পাননি রোনাল্ডো। তবে এই বিশ্বকাপই শেষ বিশ্বকাপ তাঁর। সৌদি প্রো লিগে ৩০ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৮টি গোল। তবে দেশের জার্সিতে পরিসংখ্যান তাঁর জন্য সুখকর নয়।
এদিকে পর্তুগালে ব্রুনো, ভিটিনহাদের মতো সুযোগ তৈরি করার ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু রোনাল্ডোর গোল মিসের প্রভাব পড়ছে দলের উপর আর সেই কারণেই অনেকে মনে করছেন রোনাল্ডোর নামের ভারে কোথাও ক্ষতি হচ্ছে দলের। কঙ্গোর বিরুদ্ধেও ম্যাচের রাশ ছিল পর্তুগালের হাতে। ৯০ মিনিট খেললেও গোল আসেনি তাঁর পায়ে। তবে আবার এর পাশাপাশি এও সত্যি যে তিনি জ্বলে উঠলেও ম্যাচে রং পাল্টাতে সময় নেবে না। এই মুহূর্তে সুপারস্টার রোনাল্ডোর জ্বলে ওঠার আশায় সমর্থকরা (Cristiano Ronaldo)।
আরও পড়ুন: Birbhum: ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ রায় গ্রেফতার
শেষ মুহূর্তের জয় ঘানার
বলের দখল থেকে শুরু করে গোল লক্ষ্য করে শট, সবই বেশি ছিল পানামার কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হল না। গোল করতে পারল না পানামা। ফুটবলে গোলই শেষ কথা বলে আর কে কটা গোল করল সেই দিয়েই লিখিত হয় দলের জয় পরাজয়ের কাহিনী। একেবারে শেষ মুহূর্তে সেটাই করে দেখাল ঘানা। ৯০ মিনিটেও দু’দল ০-০ ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, খেলা ড্র হবে। সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে গোল করেন ঘানার সেলেব ইরেনকি। ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় ঘানা (Cristiano Ronaldo)।
বিশ্বকাপ অভিষেকে হার উজবেকিস্তানের
এ বারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল এশিয়ার এই দেশ। কিন্তু কলম্বিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারল না উজবেকিস্তান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন ড্যানিয়েল মুনোজ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরায় উজবেকিস্তান। গোল করেন আব্বোসেবেক ফায়জুলায়েভ। ৫ মিনিট পর আবার কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ। খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে লাতিন আমেরিকার দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ এবং ৩-১ গোলে জেতে কলম্বিয়া (Cristiano Ronaldo)।


