Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং তেহরানের অনুরোধেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে (Iran)। এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। ফলে ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধস (Iran)
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে এক ধাক্কায় বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৪.৬৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড-এর দাম ৪.৭৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
কেন কমল তেলের দাম? (Iran)
আন্তর্জাতিক তেলের বাজার মূলত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে বাজার ধরে নেয় যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যদি সত্যিই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরি হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। তার ফলে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে—এই প্রত্যাশাতেই বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।
ভারতের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন? (Iran)
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট চাহিদার সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে পৌঁছায়। এই সামুদ্রিক পথকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর বলা হয়। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই সম্পন্ন হয়। ফলে সেখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলে।
জ্বালানির দাম কমলে কী লাভ হবে ভারতের? (Iran)
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকে, তাহলে ভারতের একাধিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
● পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমতে পারে
অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে পরিশোধন সংস্থাগুলির আমদানি খরচ কমে যায়। ফলে ভবিষ্যতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
● রান্নার গ্যাসের খরচ কমতে পারে
ভারত বিপুল পরিমাণ এলপিজিও আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে রান্নার গ্যাসের মূল্যও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
● মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমবে
পরিবহণ ব্যয় কমলে খাদ্যপণ্য, শিল্পপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
● সরকারের আমদানি ব্যয় কমবে
কম দামে তেল কিনতে পারলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমবে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হবে।
● শিল্প ও পরিবহণ খাতে স্বস্তি
বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিমান পরিবহণ, ট্রাক ও লজিস্টিক্সসহ বহু শিল্পক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যয় কমে উৎপাদন খরচও হ্রাস পেতে পারে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতার থেকে রপ্তানিকৃত তেলের বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। যদি এই পথ যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের কারণে বন্ধ হয়ে যায় কিংবা সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।



