Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: “পড়াশোনা করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে” বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলেছে (Reading Corner)। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ কিংবা ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে তথ্য সংগ্রহ এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু এই প্রযুক্তিনির্ভরতার একটি নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমশ কমছে বই পড়ার অভ্যাস। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম পড়াশোনা, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা বিনোদনের ক্ষেত্রেও বইয়ের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বইয়ের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মানসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে বই পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘রিডিং কর্নার’ বা পাঠকোণ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী এই ‘রিডিং কর্নার’? (Reading Corner)
রিডিং কর্নার হল স্কুলের এমন একটি নির্দিষ্ট স্থান, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে পারবে। এটি শুধুমাত্র একটি ছোট লাইব্রেরি নয়, বরং বইয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য একটি বিশেষ শিক্ষামূলক পরিবেশ।
পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকারপোষিত বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেসব স্কুলে ইতিমধ্যে গ্রন্থাগার রয়েছে, সেখানে রিডিং কর্নারকে আরও কার্যকর করতে হবে। আর যেসব স্কুলে লাইব্রেরি নেই, সেখানে দ্রুত গ্রন্থাগার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, বই পড়া কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়, বরং চিন্তাশক্তি, ভাষাজ্ঞান, কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষাবিদদের মতে, বই পড়ার অভ্যাস যত ছোটবেলা থেকে তৈরি হবে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব তত সমৃদ্ধ হবে।
রিডিং কর্নারে কী কী থাকবে? (Reading Corner)
সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রিডিং কর্নারে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক বই রাখতে হবে। যেমন, গল্পের বই, উপন্যাস ও শিশু সাহিত্য, অভিধান, বিজ্ঞান বিষয়ক বই, সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই, ইতিহাস ও ভূগোলের বই, বিভিন্ন মানচিত্র ও শিক্ষাসামগ্রী এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
পড়ার জন্য থাকবে নির্দিষ্ট সময় (Reading Corner)
শুধু বই রাখলেই হবে না, বই পড়ার জন্য স্কুলের রুটিনে নির্দিষ্ট সময়ও বরাদ্দ করতে হবে। এই সময়ে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পছন্দের বই পড়তে পারবে। শিক্ষকরা তাদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করবেন এবং পড়া বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে বই পড়া একটি আনন্দদায়ক অভ্যাসে পরিণত হবে।
শান্ত লাইব্রেরি নয়, প্রাণবন্ত পাঠপরিবেশ (Reading Corner)
প্রচলিত ধারণায় লাইব্রেরি মানেই একেবারে নীরব পরিবেশ। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা যাতে জোরে জোরে পড়তে পারে, গল্প বলতে পারে এবং পাঠাভ্যাসকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারে, সেই ধরনের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চস্বরে পড়ার মাধ্যমে উচ্চারণ, ভাষাজ্ঞান, আত্মবিশ্বাস এবং যোগাযোগ দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই বাস্তবায়নের নির্দেশ (Reading Corner)
যদিও এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, তবে এর জন্য সরকার আলাদা কোনও আর্থিক বরাদ্দ করেনি। প্রতিটি স্কুলকে নিজেদের তহবিল থেকেই রিডিং কর্নার ও গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ, স্থানীয় সমাজসেবী সংস্থা, বইপ্রেমী ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পারবেন।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
গ্রন্থাগার মন্ত্রীর বক্তব্য
রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, গ্রামাঞ্চলের বহু সরকারি ও সরকারপোষিত বিদ্যালয়ে এমন অনেক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে, যাদের পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত বই কেনা সম্ভব হয় না। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও রিডিং কর্নার থাকলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পাবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই উদ্যোগ সফল করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করবেন।



