Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে রেডিয়ামকে বিজ্ঞান ও আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো (Radium Girls)। ঘড়ির ডায়াল অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করার জন্য তেজস্ক্রিয় রেডিয়াম মিশ্রিত রং ব্যবহার করা হত। সেই রং ঘড়ির ডায়ালে লাগানোর কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল বহু তরুণী শ্রমিককে। তাঁদের কাজ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সরু ব্রাশ দিয়ে ক্ষুদ্র ডায়ালে রং করা।
‘নিরাপদ’ কাজের নামে বিষ ঢুকছিল শরীরে (Radium Girls)
কারখানায় শ্রমিকদের বলা হতো রেডিয়াম ক্ষতিকর নয়। বরং ব্রাশের ডগা আরও সরু করার জন্য তাঁদের ঠোঁট বা জিব দিয়ে ব্রাশের মাথা চেপে সরু করতে শেখানো হয়েছিল। দিনে অসংখ্যবার এই কাজ করতে গিয়ে অজান্তেই রেডিয়াম তাঁদের শরীরে প্রবেশ করত। কাজ শেষে তাঁদের পোশাক, চুল ও ত্বকে রেডিয়ামের ক্ষীণ আভা দেখা যেত। সেই কারণেই তাঁরা পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘রেডিয়াম গার্লস’ নামে।
আভা মুছে গেল, শুরু হলো মৃত্যুর ছায়া (Radium Girls)
কয়েক বছর পর একের পর এক শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হতে শুরু করেন। তাঁদের দাঁত ও চোয়ালের হাড়ে অস্বাভাবিক ক্ষয় দেখা দেয়। কারও হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, কারও শরীরে তৈরি হয় মারাত্মক রোগ। যে রেডিয়াম একসময় তাঁদের শরীরকে রাতের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করাত, সেই রেডিয়ামই ধীরে ধীরে তাঁদের শরীরের ভিতরে ধ্বংস ডেকে আনছিল।
সত্য গোপন করার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই
পরবর্তীকালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, রেডিয়ামের বিপদ সম্পর্কে শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা থাকলেও শ্রমিকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। অসুস্থ হয়ে পড়া নারীরা তাই নীরব থাকেননি। তাঁরা কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন এবং তাঁদের দাবি আদালত ও জনমতের সামনে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: অগ্নিকাণ্ডের পর বড় প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় চাঞ্চল্য
তাঁদের লড়াই বদলে দিল শ্রমিক সুরক্ষার ইতিহাস
রেডিয়াম গার্লসের সংগ্রাম শুধু কয়েকজন নারীর ন্যায়বিচারের লড়াই ছিল না; এটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতা এবং শ্রমিকের অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছিল। তাঁদের সাহস ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ও শ্রমিক সুরক্ষার আইনকে আরও শক্তিশালী করার পথ তৈরি করে।



