Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : দেশের শহরের মধ্যে কলকাতায় পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম (Road Accident in Kolkata)। গল্প হলেও সত্যি না কিন্তু… দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং হায়দ্রাবাদের তুলনায় কলকাতার রাস্তাঘাট অনেকটাই নিরাপদ বলে দাবি করেছে কলকাতা পুলিশ।

সরকারি উদ্যোগে সাফল্য (Road Accident in Kolkata)
কলকাতা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন ট্রাফিক আধিকারিক জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ অভিযানই এই সাফল্যের মূল কারণ।
এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফলস্বরূপ দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের তুলনায় দৃশ্যত হ্রাস পেয়েছে।

শহরের পরিসংখ্যানের তুলনা কম না বেশি? (Road Accident in Kolkata)
দিল্লি : ১,৫০৪টি দুর্ঘটনায় ১,৫৫১ জনের মৃত্যু।
বেঙ্গালুরু : ৮৬৯টি দুর্ঘটনায় ৮৯৪ জনের মৃত্যু।
চেন্নাই : ৫৩৪টি দুর্ঘটনায় ৫৪৪ জনের মৃত্যু।
মুম্বই : ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৩৭০ জনের মৃত্যু।
হায়দ্রাবাদ : ২৮৬টি দুর্ঘটনায় ৩০১ জনের মৃত্যু।
কলকাতা : ১৮৮টি দুর্ঘটনায় ১৯১ জনের মৃত্যু দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
নিহতদের শ্রেণিবিন্যাস (Road Accident in Kolkata)
পথচারী : ৭৯ জন
দুই চাকার যানচালক : ৭৫ জন
গাড়ির আরোহী : ৫৪ জন
বাইকের যাত্রী : ২১ জন
এ থেকে স্পষ্ট, পথচারী ও দুই চাকার যান ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে।
আহতের পরিসংখ্যান (Road Accident in Kolkata)
আহতের দিক থেকেও কলকাতা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
দিল্লি : ৫,২২৪ জন আহত
বেঙ্গালুরু : ৪,০২২ জন আহত
চেন্নাই : ৩,৮৮৮ জন আহত
মুম্বই : ২,৭২৩ জন আহত
হায়দ্রাবাদ : ৩,৩৯৩ জন আহত
কলকাতা : ১,৭২৪ জন আহত (২০২৩ সালে)
২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৭৫৪ জন। অর্থাৎ, সামান্য হলেও হ্রাস ঘটেছে।
আরও পড়ুন: Beginning of Durga Puja: ইংরেজদের খুশি করতেই কি দুর্গাপুজোর সূচনা?

বিগত পাঁচ বছরের চিত্র (Road Accident in Kolkata)
২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কলকাতায় পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে।
২০১৯ : ২৬৭ জনের মৃত্যু
২০২৩ : ১৫৯ জনের মৃত্যু
২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে ১৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ ভাঙড় অঞ্চলকে কলকাতা পুলিশের আওতায় আনা। নতুন ট্র্যাফিক গার্ড গঠনের ফলে সেই এলাকার দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান এখন কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

আবহাওয়া ও দুর্ঘটনার সম্পর্ক
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আবহাওয়াও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
পিচ্ছিল রাস্তায় মৃত্যু বেড়ে যায় জুলাইতে ২০ জন, আগস্টে ১১ জন এবং সেপ্টেম্বরে ২১ জনের মৃত্যু।
কম দৃশ্যমানতার কারণে দুর্ঘটনা বেশি জানুয়ারিতে ১৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ জন, নভেম্বরে ১৭ জন এবং ডিসেম্বরে ১২ জন মারা গিয়েছেন।



