Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এনসিপিআই-এর (NCPI) তিন সাংসদের অনুপস্থিতি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (Samik Bhattacharya)। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ওই সাংসদরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যাবেন না, এনডিএ-র বৈঠকেও বসবেন না এবং বিজেপির পাশে থাকবেন না। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্যের আওতায় পড়ে না।
‘এটা আমাদের সিলেবাসের মধ্যে পড়ে না’ (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, যতদূর তাঁর জানা, এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ ইতিমধ্যেই এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। তবে কে যাবেন, কে যাবেন না বা কোন দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃত্বের বিষয়। তাঁর কথায়, “এটা আমাদের সিলেবাসের মধ্যে পড়ে না। সেটা তাঁদের নেতৃত্বের দেখার বিষয়।” অর্থাৎ, অন্য রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে তিনি অনিচ্ছুক বলেই ইঙ্গিত দেন।
‘দ্বিচারিতা থেকে দূরে থাকুন’ (Samik Bhattacharya)
যদিও সরাসরি কাউকে আক্রমণ না করেও শমীক ভট্টাচার্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, বর্তমান ভারত গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে ‘তুঘলকের শাসন’ বা ‘মোঘলের শাসন’ নেই। তাঁর বক্তব্য, “দেশে তো এখন তুঘলকের শাসন নেই, মোঘলের শাসন নেই। তাই এই সমস্ত দ্বিচারিতা থেকে দূরে থাকুন। আমি যেমন বেনী তেমনি রব, চুল ভিজাব না এই নাটক মানুষ হজম করবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, একদিকে বিজেপির বিরোধিতা করা এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া জনগণ ভালোভাবে নেবে না।
২০২৯ সালের ডিলিমিটেশন নিয়ে জল্পনা (Samik Bhattacharya)
রাজনৈতিক মহলে এমনও দাবি উঠেছে যে, বিজেপি নেতৃত্ব নাকি সংশ্লিষ্ট সাংসদদের আশ্বস্ত করেছেন ২০২৯ সালের সম্ভাব্য ডিলিমিটেশনের পরে লোকসভা আসন সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তাঁদের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। এই দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই বিষয়টিও তাঁর আলোচনার পরিধির বাইরে। তিনি জানান,”এটা সম্পূর্ণই আমাদের সংসদীয় বোর্ডের বিষয়। ২০২৯ সাল এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। ডিলিমিটেশন হবে কি হবে না, আসন বাড়বে কি না, নির্বাচন কীভাবে হবে এগুলো ভবিষ্যতের বিষয়। এর মধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে যাবে। দেখতে থাকুন।”
‘দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি নিয়ে এখনই মন্তব্য নয়’ (Samik Bhattacharya)
সমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ, আসন পুনর্বিন্যাস বা সম্ভাব্য নির্বাচনী কৌশল নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করতে রাজি নয় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। তিনি বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও দলের সংসদীয় বোর্ডের ওপর ছেড়ে দেন।
আরও পড়ুন: Adhir Ranjan Chowdhury: ‘মানুষকে না বুঝিয়েই ইথানল চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার’, বিস্ফোরক অভিযোগ অধীরের
রাজনৈতিক তাৎপর্য
এনডিএ-র বৈঠকে অনুপস্থিতি, জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং ২০২৯ সালের সম্ভাব্য ডিলিমিটেশন— এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও সমীক ভট্টাচার্য কোনও জল্পনায় সরাসরি সিলমোহর দেননি, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিজেপি আপাতত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বেশি মন্তব্য করতে চাইছে না এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।



