Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিদেশে চাকরির সুযোগ ছিল, উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা ছিল, ছিল স্বপ্নপূরণের রাস্তা (Sandesh Parial)। কিন্তু সবকিছু পেছনে ফেলে নিজের দেশে ফিরে এসে রাস্তায় ঠেলাগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন এক তরুণ সন্দেশ পরিয়াল।হ্যাঁ, সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম এখন পরিচিত রাঁধুনি হিসেবে নয়, “লড়াকু উদ্যোক্তা” হিসেবে। একটা পোস্টেই ভাইরাল হয়েছেন তিনি বিদেশের চাকরি ছেড়ে ‘হ্যারিকেন’ নামের ফুড-কার্ট খুলেছেন মধ্যমগ্রামে। আর সেই সাহসিকতাই আজ অনেক তরুণের অনুপ্রেরণা।

‘হ্যারিকেন’-এর গল্প (Sandesh Parial)
হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাসআউট সন্দেশ বিদেশে চাকরি করতেন। কিন্তু মা-র ক্যান্সার ধরা পড়তেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। একমাত্র সন্তান হওয়ায় দায়িত্বের ভার ছিল কাঁধে। চিকিৎসা, আর্থিক টানাপোড়েন, মানসিক চাপ সব পেরিয়ে তিনি হার মানেননি। মা চলে যাওয়ার পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং ‘নিজের কিছু’ করার দৃঢ় ইচ্ছে থেকেই জন্ম নেয় ‘Hurricane’ ফুড-কার্ট।

রাস্তায় দাঁড়িয়েও রন্ধনশিল্পের জয়গান (Sandesh Parial)
মধ্যমগ্রামের বাদুড়রোড, শ্রীনগর ২ নম্বর গেটের কাছে, Mio Amore-এর পাশেই এখন তাঁর কার্ট, যেখানে মোমো থেকে ফিশ-ফ্রাই, ভাপা চিকেন পর্যন্ত জনপ্রিয় সব পদ পাওয়া যায়। সন্দেশ হাসিমুখে বলেন, “চাকরি করব না। নিজের হাতে নিজের কাজ তৈরি করব।” তিনবার ব্যর্থ হয়েছেন, তবু হারেননি। আর মজার ছলে বলেন, “আমার মাথার অর্ধেক চুল আমার ঋণ আর লড়াইয়ের প্রতীক!”

“Hitch-hike Travelers” (Sandesh Parial)
খাবারের পাশাপাশি সন্দেশ চালু করেছেন তাঁর দ্বিতীয় উদ্যোগ ‘Hitch-hike Travelers’, যেখানে অফবিট গন্তব্যে ভ্রমণ আয়োজন করা হয় সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে। ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিন রাত-চার দিনের নর্থ বেঙ্গল ট্রিপের আয়োজন করেছেন মাত্র ₹৬৪৯৯ টাকায়। তিনি বলেন, “আপনি যদি আমার কার্টে এসে খাবার খান, আমি চাই আপনি সেই খাবারের শক্তি নিয়ে পাহাড়ে ঘুরে আসুন।”
কঠিন সময়ের মধ্যেও স্থির মনোবল (Sandesh Parial)

এক বছর আগে মায়ের মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তবু থেমে থাকেননি। ঋণের ওপর ঋণ নিয়ে শুরু করেছেন ব্যবসা, নিজের মতো করে। তিনি বলেন, “লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। দিনে ৫ ঘণ্টা কাজের জন্য ২০০ টাকা দিয়েও লোক পাইনি। সবাই টাকা চায়, কিন্তু খাটতে চায় না।” সমাজের চোখে ‘ঝুঁকি’ অনেকে এখনও বলেন “ম্যানেজমেন্ট পড়ে রাস্তায় ঠেলাগাড়ি চালানো লজ্জার।” কিন্তু সন্দেশের উত্তর স্পষ্ট, “আমি ম্যানেজমেন্ট পড়ে রাস্তায় দাঁড়াতে পারি, তুমি কেন পারবে না? এসো মাঠে নামো — খেলা হবে!”
আরও পড়ুন: Richa Ghosh: মেয়ের হাত ধরে ইতিহাস স্পর্শ, জানালেন রিচার মা

বন্ধুদের সমর্থন, মানুষের ভালোবাসা
সন্দেশের বন্ধুরা জানান, তিনি বিদেশে চাকরির সুযোগ ছেড়ে দেশের মাটিতে থেকে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা কোনো খামখেয়ালিপনা নয়, বরং একটা ক্যালকুলেটেড রিস্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিও ও পোস্ট ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন। তাঁর ফুড-কার্টে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে, প্রশংসা আসছে নানা জায়গা থেকে।



