Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে একাধিক গর্বের মুহূর্ত রয়েছে। সেই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhangshu Shukla)। ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মা যেভাবে ‘অশোক চক্র’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন, তেমনই সেই রাষ্ট্রীয় সম্মান এবার শুভাংশু শুক্লার হাতেও উঠতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবু তাঁর মহাকাশযাত্রা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের ভবিষ্যৎ গগনযান অভিযানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সব মিলিয়ে শুভাংশু আজ নিঃসন্দেহে ভারতের মহাকাশ অভিযানের অন্যতম মুখ।

স্পেসএক্সের ড্রাগনে চেপে আইএসএস-এ (Shubhangshu Shukla)
গত বছরের ২৫ জুন, আমেরিকার বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র (আইএসএস)-এর উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন শুভাংশু শুক্লা। এই ঐতিহাসিক অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজনিউস্কি এবং টিবর কাপু। এই যাত্রা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, ভারতের জাতীয় গর্বের মুহূর্তও বটে। মহাকাশযানে শুভাংশুর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ভারতের জাতীয় পতাকা যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে আরও একবার বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিল ভারতের পরিচয়।
মহাকাশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতীয় পতাকা (Shubhangshu Shukla)
আইএসএস থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভাংশু শুক্লা। সেই সাক্ষাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মহাকাশে বহন করা ভারতের জাতীয় পতাকা। এই মুহূর্তটি প্রতীকী অর্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেখানে ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে মিশে যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জাতীয় আবেগ। এই দৃশ্য যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, মহাকাশ অভিযানের সাফল্য কেবল একজন নভশ্চরের নয়, তা গোটা দেশের অর্জন।

পৃথিবীকে নতুন করে চেনা (Shubhangshu Shukla)
আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে টানা ২০ দিন কাটান শুভাংশু। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কলকাতায় এসে আইসিএসপি-তে শুভাংশু শুক্লা প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনে তিনি বলেন, “পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে সারাক্ষণ আমাদের গ্রহটাকে একসঙ্গে দেখতে পারছিলাম। দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখেছি কিন্তু একঘেয়ে লাগেনি।” তিনি আরও বলেন, “এই প্রথম মনে হল, আলাদা করে কোনও শহর বা দেশ নয় আস্ত পৃথিবীটাই আমার পরিচয়। মহাকাশে গেলেই এটা বোঝা যাবে।” এই উপলব্ধি শুধুই একজন নভশ্চরের ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং মানবজাতির সামগ্রিক অস্তিত্ব ও দায়িত্ববোধের কথাও তুলে ধরে।
গগনযান অভিযানে শুভাংশু (Shubhangshu Shukla)
শুভাংশু শুক্লা যুক্ত রয়েছেন ভারতের বহু প্রতীক্ষিত গগনযান অভিযানের সঙ্গেও। সম্প্রতি ইসরো জানিয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দু’-এক বছরের মধ্যেই ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে মহাকাশে নভশ্চর পাঠাবে। এই অভিযানে চার জন নির্বাচিত নভশ্চর হলেন, বালাকৃষ্ণন নায়ার, অঙ্গদ প্রতাপ, অজিত কৃষ্ণন, শুভাংশু শুক্লা, গগনযান সফল হলে, আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর কৃতিত্ব অর্জন করবে ভারত।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
গগনযানের সূচনা
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথম গগনযান প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। ইসরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান কে সিভন জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যেই এই অভিযান সম্পন্ন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার কক্ষপথে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে একাধিক মানববিহীন গগনযান উৎক্ষেপণ করা হয়। নভশ্চরদের নিরাপত্তা, পুনঃপ্রবেশ এবং সমুদ্রে অবতরণের মতো জটিল বিষয়গুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতা, অতিমারির প্রভাব এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই ধাপে ধাপে পিছিয়েছে এই অভিযানের সময়সূচি।



