Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা সাহিত্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)। তাঁর কবিতা যেমন মানবিক অনুভূতি, প্রেম, যন্ত্রণা ও সময়ের দলিল হয়ে উঠেছে, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সর্বদা থেকেছে নিভৃত ও বিতর্কহীন। সেই কবিকেই এবার এসআইআর এর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে যা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ, প্রশ্ন এবং বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

কী এই এসআইআর শুনানি? (Joy Goswami)
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার পর, এখন চলছে শুনানির পর্ব। মূলত যাঁদের নাগরিকত্ব, ঠিকানা বা ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, তাঁদেরই এই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে এমনটাই কমিশনের ব্যাখ্যা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই একজন সুপ্রতিষ্ঠিত, সর্বজনপরিচিত কবির নাম উঠে আসা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।
জয় গোস্বামীর পরিবার কেন ক্ষুব্ধ? (Joy Goswami)
কবি জয় গোস্বামীর পরিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কবি ও তাঁর পরিবারের এনুমারেশন ফর্ম যথাসময়ে জমা পড়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম বিদ্যমান, এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি ভোট দিয়েছেন। এই সমস্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকার অর্থ কী সেই প্রশ্নই তুলেছেন কবির কন্যা দেবত্রী গোস্বামী। তাঁর অভিযোগ, এই ডাক কার্যত এক ধরনের হেনস্তা।
নাগরিকত্ব নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন? (Joy Goswami)
পরিবারের তরফে আরও বিস্ময়ের সঙ্গে জানানো হয়েছে, জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতার শিশুমঙ্গল হাসপাতালে। তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা রাণাঘাটে মামারবাড়িতে, এবং বসবাসের সূত্রে ডোভার লেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগ। একজন ব্যক্তির জীবন ও নাগরিক পরিচয় যদি এত স্পষ্ট ও নথিভুক্ত হয়, তাহলে তাঁকে শুনানিতে ডাকার প্রয়োজন কেন এই প্রশ্ন শুধু পরিবার নয়, অনেকের মনেই উঠছে।
অসুস্থ কবিকে শুনানিতে ডাকা (Joy Goswami)
এই বিতর্কে সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকটি হলো কবি জয় গোস্বামী বর্তমানে অসুস্থ। এই অবস্থায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা মানে শুধুই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং মানবিকতার অভাব বলেই মনে করছে পরিবার। একজন প্রবীণ, অসুস্থ সাহিত্যিককে দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বুদ্ধিজীবী মহলে।
রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া (Joy Goswami)
এই ঘটনায় কবির পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি প্রকাশ্যে এই বিষয়টির সমালোচনা করেছেন এবং কবির প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, শোনা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই জয় গোস্বামীর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন এই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: পহেলগাঁও–দিল্লি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় মমতা
এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা
এই ঘটনা একক কোনও ভুল নাকি বৃহত্তর প্রশাসনিক গাফিলতির ইঙ্গিত তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া যে প্রয়োজনীয়, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যেন নির্বিচারে, অযথা বা যান্ত্রিকভাবে নোটিস না পাঠানো হয়, সেটাই মানুষের প্রত্যাশা। বিশেষত যাঁরা সমাজে সুপরিচিত, নথিভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।



