Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একতরফা ম্যাচে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় স্পেন, জোড়া গোল ওয়ারজাবালের।
সহজ জয় স্পেনের
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন অনেক ছোট ছোট দেশ খাতায় কলমে এগিয়ে থাকা দেশের বিরুদ্ধে প্রাণ পণ লড়াই চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জয় না এলেও আগামীর পদ চিহ্ন হিসেবে সেগুলো উল্লেখ করা থাকবে। বিশ্ব ফুটবলের আগামীর মানচিত্র নতুন ভাবে লেখার বার্তা দিয়েছে এই বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঙ্গোর লড়াই শেষ উদাহরণ হিসেবে বলা যেতেই পারে। এমন হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের সাক্ষী থেকেছে এই বিশ্বকাপ সেখানে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে একপেশে ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শেষ ১৬-য় পৌঁছে গেল স্পেন।
বিশ্বকাপের শুরু থেকে স্পেনকে অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হলেও তাঁদের শুরুটা স্বপ্নের নয়। কিন্তু অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা এবং ফুটবলপ্রেমীরা। নিজেদের দোষেই কার্যত বিদায় নিতে হল অস্ট্রিয়াকে । স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক মিকেল ওয়ারজাবাল।
এই অস্ট্রিয়াই গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট লড়াই চালিয়েছিল। আবার আলজেরিয়ার কাছে তিন গোল খেয়েছিল, সুতরাং দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে বেশ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে স্পেনের বিরুদ্ধে তাঁরা যেন প্রথম থেকেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেই বসেছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং পজিশন ছিল স্পেনের দখলে। আর বারবার আক্রমণের ফল পেতে বেশি বেগ পেতে হয়নি স্প্যানিশ আর্মাডার।
আরও পড়ুন: Abhishek Sharma: ম্যাচ ভেস্তে গেলেও রেকর্ড অভিষেকের
আলজেরিয়ার কাছে যে দল তিন গোল খেয়েছে সেই দলের রক্ষণ ভাঙা যে খুব একটা কঠিন হবে না, এটা স্পেন জানতাই আর সেই কারণেই গতি আর আক্রমণ এই দুই অস্ত্র নিয়ে শুরু থেকেই তাঁরা চাপ বাড়াতে থাকে। সেই চাপেই ভেঙে পড়ে অস্ট্রিয়ার রক্ষণ। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ আগেই শেষ ছিল। একাই তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই বিশ্বকাপ সাক্ষী থেকেছে গোলকিপারদের দক্ষতার।
স্পেনকে এখনই বলা মুশকিল যে ফাইনাল খেলবে বা খেতাব জিতবে। তবে যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে এবং স্পেনকে আটকানো যে কোনও দলের জন্য কঠিন তবে ফ্রান্স হলে সেখানে রয়েছে এমবাপে, ডেম্বেলে, ওলিসে সুতরাং সেই ম্যাচ যদি হয় তবে সেটা টানটান থ্রিলারের থেকে কম কিছু হবে না।
অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। এই আক্রমণ কিছুক্ষণ আটকে রাখার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ সেটা করতে পারেনি অস্ট্রিয়া।
স্পেনের আক্রমণ সামলানো সহজ হবে না, এটা অস্ট্রিয়া আগে থেকেই জানত বা সহজ অনুমান ছিল। তার পরেও রক্ষণে বার বার ফাটল ধরা পড়ল এই ম্যাচে। অস্ট্রিয়া বেশি মন দিয়েছিল ইয়ামালকে আটকানোয়, ম্যান মার্কিং করতে গিয়ে গলদ থেকে গেল রক্ষণে। ডান প্রান্ত থেকে বায়েনা এবং কুকুরেয়া যে ও ভাবে ধেয়ে আসবেন সেটা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। কুকুরেয়ার একটি গোলও বাতিল করা হল। ইয়ামালকে আটকাতে গিয়ে ফাঁকা রেখে দেওয়া হল ওয়ারজাবালকে। স্পেনের স্ট্রাইকার দু’টি গোলই করলেন অস্ট্রিয়ার রক্ষণের বোঝাপড়ার ভুলে। তবে এটা বোঝার আগে দেওয়াল লিখন হয়ে গেছিল আর বাকিটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দের জোয়ারে ভাসলো স্প্যানিশ আর্মাডারা।
গোল না করেও নজর কাড়লেন ইয়ামাল
এই ম্যাচে শুধু গোলটাই করেননি এই তরুণ তারকা। বারবার যাঁর কথা চর্চায় উঠে এসেছে সেই ইয়ামাল আজ জ্বলে উঠলেন। গোল ছাড়া বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দুর্দান্ত দুটো সেভ না থাকলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ না রেখে ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেললেন আর তাঁকে আটকাতে গিয়ে বাকি দিক ফাঁকা থাকল বিপক্ষের। মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে ইয়ামালকে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে, বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের পথ তাঁর জানা। নতুন প্রজন্মের অন্যতম তারকা হিসেবে কেন তাঁর নাম উঠে আসে বারবার সেটাই আজ প্রমাণ করলেন তিনি।


