Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত (Stock Market)। আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক পতনের পাশাপাশি ধস নেমেছে এশিয়ার একাধিক শেয়ার বাজারেও। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও উল্টো পথে হাঁটছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। শুক্রবার লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সেনসেক্স ও নিফটি। বেলা ১২টা ২৭ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ৭০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে ৭৯,৮৩৩.৬৭ পয়েন্টে লেনদেন করছিল। অন্যদিকে, ১০১.৬০ পয়েন্ট বা ০.৪১ শতাংশ বেড়ে নিফটি পৌঁছেছিল ২৪,৬৩৮.২০ পয়েন্টে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ উপেক্ষা করে ভারতীয় বাজারের এই উত্থান স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে বিনিয়োগকারীদের।
আমেরিকার প্রযুক্তি শেয়ারে বড়সড় ধস (Stock Market)
আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয়ের পর AI পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগে বিধিনিষেধ আসতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন দেখা গিয়েছে। প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে নাসডাক সূচক। অন্যদিকে, S&P 500 সূচকও ৪ শতাংশের বেশি নেমে গিয়েছে।
এই পতনের ধাক্কা লেগেছে বিশ্বের প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বাজার মূলধনেও। এনভিডিয়ার বাজার মূলধন প্রায় ৪৪০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। পাশাপাশি টেসলা ও স্পেসএক্সের সম্মিলিত বাজার মূলধনেও প্রায় ৪২০ বিলিয়ন ডলারের পতনের খবর সামনে এসেছে।
এশিয়ার বাজারেও রক্তক্ষরণ (Stock Market)
আমেরিকার বাজারের পতনের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলিতেও। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ শতাংশের বেশি নেমে গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকের পতনের পরিমাণ ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সেই আবহে ভারতীয় বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
FII-দের বিপুল বিনিয়োগে শক্তি পাচ্ছে বাজার (Stock Market)
ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই উত্থানের অন্যতম কারণ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) ক্রমাগত শেয়ার কেনা। গত পাঁচটি ট্রেডিং সেশনে FII-রা প্রায় ৩৫,৭৮১ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। অন্যদিকে, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (DII) একাংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল কেনাকাটা বাজারকে শক্তিশালী সমর্থন জুগিয়েছে।
জিয়োজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমারের মতে, আমেরিকার বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়বে। তবে তুলনামূলকভাবে ভারতীয় বাজারের উপর তার প্রভাব কম হতে পারে। তাঁর মতে, আমেরিকার AI এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন ভারতীয় বাজারের জন্য কিছুটা ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নিফটি আইটি সূচকে, যেখানে প্রায় ১ শতাংশের উত্থান হয়েছে।
লার্জ-ক্যাপ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের নজর (Stock Market)
বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পিছনে শক্তিশালী কর্পোরেট আয় বা আর্নিংসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে (Stock Market)। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে লার্জ-ক্যাপ শেয়ারের প্রতি। এই ধরনের শেয়ারের মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠায় নতুন করে কেনাকাটা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
আরও পড়ুন: Stock Market: ট্রাম্পের হারে দালাল স্ট্রিটে ঝড়! একলাফে বাড়ল সেনসেক্স
তবে বাজারের সব বিভাগে একই রকম উত্থান দেখা যাচ্ছে না। সেনসেক্সে যেখানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে স্মলক্যাপ ১০০ সূচকের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সূচকটি বেড়েছে মাত্র ০.৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ, আপাতত বড় সংস্থার শেয়ারেই বেশি ভরসা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই শক্তি কতক্ষণ বজায় থাকে, এখন সেটাই দেখার।



