Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিনের অনুমোদন ছাড়া পরবর্তী দলাই লামার মনোনয়ন হবে না—এই হুঁশিয়ারি জারি করেছে চিন সরকার (Dalai Lama)। তিব্বতের নির্বাসিত ধর্মগুরু দলাই লামার আসন্ন জন্মদিনের আগে এমন স্পষ্ট বার্তায় ফের মাথাচাড়া দিয়েছে চিন-তিব্বত সংঘাত। তবে পাল্টা জবাবে দলাই লামা জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও বিদেশি শক্তি নয়, নেবেন তাঁর নিজের সম্প্রদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাস্ট গাহদেন ফোড্রাং।
চিনের স্পষ্ট বার্তা: অনুমোদন ছাড়া মান্যতা নয়(Dalai Lama)
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বুধবার বলেন, “পঞ্চদশ দলাই লামার মনোনয়ন হবে শুধুমাত্র বেজিংয়ের অনুমোদনে। অন্যথায় তাঁকে চিন স্বীকৃতি দেবে না (Dalai Lama)।” বৌদ্ধ ধর্মের নেতা নির্বাচনকে ‘রাষ্ট্রীয় অধিকার’ বলে ব্যাখ্যা করেছে বেজিং, যা কার্যত তিব্বতের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠা করে।
তিব্বতের বিষয়ে তিব্বতিদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত(Dalai Lama)
চিনের এই দাবির পরেই ভারত থেকে কড়া জবাব দেন চতুর্দশ দলাই লামা তেনজ়িং গ্যাৎসো(Dalai Lama)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “পঞ্চদশ দলাই লামার মনোনয়ের দায়িত্ব গাহদেন ফোড্রাং ট্রাস্টের। বাইরের কোনও শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে তাঁর উত্তরসূরি চিন-অধিকৃত তিব্বতে নয়, ভারতেই মনোনীত হবেন।

আরও পড়ুন: Pakistan Bomb Blast : খাইবার-পাখতুনখোয়ায় ফের রক্তঝরা সন্ত্রাস! টিটিপি-র গ্রেনেড হামলায় মৃত ৫
চিনের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলছে তিব্বতের নির্বাসিত সরকার(Dalai Lama)
ধর্মশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের ডেপুটি স্পিকার ডোলমা শেরিং তেখাং অভিযোগ করেছেন, “চিন রাজনৈতিক কারণে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কব্জা করতে চাইছে(Dalai Lama)। দলাই লামার উত্তরসূরি মনোনয়ে তারা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। এটা আমরা কোনওভাবেই মানতে পারি না।”
১৯৫৯: চিন থেকে পালিয়ে ভারতের আশ্রয়ে দলাই লামা(Dalai Lama)
চিন-তিব্বত টানাপোড়েনের এই মূল পর্ব শুরু হয় প্রায় ছ’দশক আগে। ১৯৫৯ সালের মার্চে মাত্র ২৪ বছর বয়সে চিনা সেনার রোষ এড়িয়ে লাসা থেকে পালিয়ে আসেন তেনজ়িং গ্যাৎসো। সেনার ছদ্মবেশে পায়ে হেঁটে, হিমালয় পেরিয়ে ভারতে পৌঁছন তিনি। ১৭ মার্চ ১৯৫৯ তাঁর জীবনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এরপরই হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় গড়ে ওঠে তিব্বতের নির্বাসিত সরকার। কয়েক হাজার তিব্বতি শরণার্থীও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে স্থায়ী হন।

উত্তরসূরি ঘিরে অস্থিরতা: ধর্মীয় না রাজনৈতিক?(Dalai Lama)
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। দলাই লামার আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা, তাঁর অহিংসার বার্তা এবং চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান—এই সবই বেজিংয়ের মাথাব্যথার মূল কারণ।
উপসংহার: ধর্মশালার সিদ্ধান্ত বনাম বেজিংয়ের নির্দেশ
৬ জুলাই ৯০ বছরে পা দিতে চলেছেন দলাই লামা। তাঁর জীবদ্দশাতেই উত্তরসূরি মনোনয়নের সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির নজর ধর্মশালার দিকে। চিনের হুমকি এবং দলাই লামার প্রত্যুত্তরে পরিস্থিতি এখন এক নতুন টানাপোড়েনের দিকে এগোচ্ছে—যেখানে ধর্ম ও রাজনীতির সীমারেখা ক্রমেই ঝাপসা।


