Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Sujit Bose)। এবারের দুর্গাপুজো জেলে বসেই কাটাতে হবে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে ধৃত প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে।
জামিনের আবেদন (Sujit Bose)
দুর্গাপুজোর আনন্দে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন গোটা শহর। একটা সময় প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর ‘শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের’ পুজো ছিল শহরের অন্যতম সেরা পুজো। এই পুজোর মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখতে লাখো লাখো মানুষ ভিড় জমাতো। কিন্তু এবারের দুর্গাপুজোয় কারাগারেই কাটাতে হবে সুজিত বসুকে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে ইডি গ্রেফতার করে সুজিত বসুকে। জামিনের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুজিত বসু। কিন্তু মঙ্গলবার সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
বিচারপতি অভিযোগ করেন (Sujit Bose)
এর আগে সুজিত বসুর জামিনের আবেদনের মামলাটি ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। কিন্তু বিচারপতি অভিযোগ করেন, সুজিত বসুর কোন এক আইনজীবী বিচারপতির চেম্বারে গিয়ে মামলার ফাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এরপরই বিচারপতি শুভ্র ঘোষ মামলাটি ছেড়ে দেন।
জামিনের আবেদন খারিজ (Sujit Bose)
এরপর এই মামলা যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। মঙ্গলবার কোন কারণ না জানিয়েই সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ঘোষ। মঙ্গলবার শুনানিতে ইডি-র আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে দাবি করেন, নিয়োগ পাওয়া ২৮৪ জন চাকরি প্রার্থীর থেকে ছয় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সুজিত বসুর অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া গিয়েছে ৮.৮ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করেন ইডি-র আইনজীবী।
আদালতের সওয়ালে বলেন (Sujit Bose)
মঙ্গলবার শুনানিতে সুজিত বসুর আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি এবং সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের সওয়ালে বলেন, ‘পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও আমার মক্কেলকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। ইডির আইনজীবী এই গ্রেফতারিকে যুক্তিসঙ্গত বলে যে দাবি করছেন, তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। ২০১৬ সালে পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিত বসুকে মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করেছে ইডি। কিন্তু এই মামলায় অপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ২০২৪-২৫ সালের যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল তাতে সুজিত বসুর নাম ছিল না।
আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
তাই আমার মক্কেলকে জামিন দেওয়া হোক। তাঁর বাড়ি কলকাতাতেই। তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যখন ডাকা হবে, তখনই তিনি হাজিরা দিতেও তৈরি রয়েছেন।’ কিন্তু সুজিতের আইনজীবীর এই আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন তিনি। ফলে এবারের দুর্গাপুজো জেলে বসেই কাটাতে হবে সুজিত বসুকে।



