Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আবহাওয়া যেন এক নাগাড়ে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচদিন রাজ্যজুড়ে আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির ‘অশনি সংকেত’ দিয়েছে হাওয়া অফিস (Weather Update)। মূলত তিনটি ঘূর্ণাবর্তের সাঁড়াশি চাপেই রাজ্যের আকাশে দুর্যোগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
ঘূর্ণাবর্তের ‘ত্রিফলা’ (Weather Update)
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বাংলার চারপাশেই এই মুহূর্তে বৃষ্টি সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিনটি সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে: প্রথমত: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তার সংলগ্ন এলাকায় একটি ‘আপার এয়ার সাইক্লোনিক সার্কুলেশন’ রয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয়ত: পূর্ব বাংলাদেশের উপর একটি হালকা দক্ষিণ দিকে হেলে থাকা সাইক্লোনিক সার্কুলেশন অবস্থান করছে।তৃতীয়ত: বিহারের উপর আরও একটি সাইক্লোনিক সার্কুলেশন তৈরি হয়েছে।
নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান (Weather Update)
এই তিন ঘূর্ণাবর্তের জেরেই বাংলায় দেদার বৃষ্টিপাত হবে। যদিও পূর্ব মধ্যপ্রদেশে সরে যাওয়া নিম্নচাপটির প্রভাব বাংলায় আর নেই, তবে মৌসুমী অক্ষরেখাটি রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশের নিম্নচাপ এলাকা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে সিকিম পর্যন্ত আরও একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বিপর্যয় বাড়ার আশঙ্কা প্রবল। বিশেষ করে বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরবঙ্গের ওপরের পাঁচ জেলায় বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে।
হলুদ সতর্কতা: উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। পরবর্তী পূর্বাভাস: শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বজায় থাকবে। তবে আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে।
শুক্রবার: দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার: বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। কলকাতা: তিলোত্তমাতেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনকি উইকএন্ড বা শনি-রবিবারেও কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সতর্কবার্তা (Weather Update)
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী সোমবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুতে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমতে পারে। আর যেসব এলাকায় বৃষ্টি হবে না, সেখানে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
কমলা সতর্কতা (Weather Update)
দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির বিশেষ পূর্বাভাস রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। শুক্রবার: দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার: বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।
কলকাতা (Weather Update)
তিলোত্তমাতেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনকি উইকএন্ড বা শনি-রবিবারেও কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কবার্তা
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী সোমবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুতে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমতে পারে। আর যেসব এলাকায় বৃষ্টি হবে না, সেখানে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
কলকাতার অবস্থা (Weather Update)
শুক্রবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমেছে। তারই মধ্যে ইএম বাইপাস সংলগ্ন হলদিরাম মোড় এলাকায় ব্যাপক জল জমায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
জমা জলের কারণে ছোট গাড়ি
মোটরবাইক এবং অটোচালকদের বিশেষ সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। অনেক যানবাহন ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হয়। কোথাও কোথাও গাড়ির চাকা জলের নিচে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। ফলে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই হলদিরাম মোড় এলাকায় জল জমে যায়। নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এই সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে। দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।
ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা (Weather Update)
এদিকে, কলকাতা পুরসভার কর্মীরা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীরা জল নামানোর কাজ শুরু করেছেন। পাম্পের সাহায্যে জল সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Maharashtra: বন্যার জলে ভেসে গেল ৩ হাজার এলপিজি সিলিন্ডার
তাই অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হলদিরাম মোড়ে জমা জলের কারণে দিনের ব্যস্ত সময়ে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যান চলাচল। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।



