Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) সম্প্রতি তাঁর এক সম্পাদকীয়তে ৭২,০০০ কোটি টাকার গ্রেট নিকোবর অবকাঠামো প্রকল্পকে “পরিবেশ ধ্বংসাত্মক” এবং “পরিকল্পিত বিপর্যয়” বলে আখ্যা দেন(Greater Nicobar Project)। তাঁর বক্তব্য, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গালাথেয়া উপসাগরে গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট (ICTP) দ্বীপের জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় আদিবাসী সমাজকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলবে।
ভারতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা (Greater Nicobar Project)
গ্রেট নিকোবর বন্দর প্রকল্পকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্র অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে(Greater Nicobar Project)। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথম ধাপ চালু হলে প্রতিবছর ভারতের প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সশিপমেন্ট ফি সাশ্রয় হবে। বর্তমানে ভারতীয় পণ্য শ্রীলঙ্কার কলম্বো বা মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং হয়ে আসে। নতুন বন্দরের মাধ্যমে তা সরাসরি ভারতের পূর্ব উপকূলে পৌঁছানো যাবে।
শুধু বাণিজ্যিক নয়, এ বন্দর হবে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য— বাণিজ্যিক ও সামরিক। এখানে এমন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট এমনকি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পর্যন্ত নোঙর করতে পারবে। বর্তমানে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের পরিকাঠামো এত বড় যুদ্ধজাহাজ ধারণে অক্ষম।
‘মালাক্কা দোটানা’(Greater Nicobar Project)
গ্রেট নিকোবর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেশি(Greater Nicobar Project)। এটি ভারতীয় মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১২০০ কিমি দূরে হলেও বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মালাক্কা প্রণালী থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে।
- প্রতিদিন এখানে দিয়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়।
- বছরে প্রায় ৯৪,০০০ জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে।
- চীনের ৬৫% জ্বালানি সরবরাহ এই পথেই আসে।
২০০৩ সালে তৎকালীন চিনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এই নির্ভরশীলতাকে ‘মালাক্কা ডিলেমা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ, এই পথ যদি কোনো শত্রু শক্তি বন্ধ করে দেয়, তাহলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুন : CP Radhakrishnan : রাজ্যপাল থেকে উপরাষ্ট্রপতি! নতুন রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন কে?
চিনের মোকাবিলায় ভারতের কৌশল(Greater Nicobar Project)
চিনা নৌবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ২৩৪টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে তাদের বহরে(Greater Nicobar Project)। ভারতও তাই ধাপে ধাপে ‘Act South-East Asia’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
- ভিজাগ বন্দরে ভারতের পূর্ব নৌবহর মোতায়েন থাকলেও এটি বাণিজ্যিক ব্যবহারে সীমিত, ফলে যুদ্ধের সময়ে প্রবেশপথ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- নিকোবরের নতুন বন্দরকে বিশাল নৌঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা গেলে ভারতীয় নৌবাহিনী মালাক্কা ছাড়াও ওম্বাই ওয়েটার, লোম্বক ও সুন্ডা প্রণালীতে কৌশলগত আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।
- নিকোবর থেকে সাবমেরিন মোতায়েন করলে তা মাত্র পাঁচ দিনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নজরদারি এলাকায় পৌঁছতে পারবে, যেখানে ভারতীয় মূল ভূখণ্ড থেকে তা নিতে সময় লাগে আট দিন।
প্রবীণ নৌ কৌশলবিদ রিয়ার অ্যাডমিরাল রাজা মেননের ভাষায়, গ্রেট নিকোবর হতে পারে ভারতের “ভবিষ্যতের পার্ল হারবার”।
আরও পড়ুন : Nepal Gen Z Protest : নেপালের সংবিধান বদল-সহ একাধিক দাবি রাখলেন বিক্ষোভকারীরা
আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের অগ্রগতি(Greater Nicobar Project)
ভারত শুধু বন্দর গড়ে তুলছে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে(Greater Nicobar Project)।
- ৫ সেপ্টেম্বর ভারত ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে মালাক্কা প্রণালীতে টহলের সিদ্ধান্ত নেয়।
- আগস্টে প্রথমবার ভারতের নৌবাহিনী ফিলিপিন্সের সঙ্গে মহড়া চালায়।
- ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সে ব্রহ্মোস মিসাইল রপ্তানি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও রপ্তানি আলোচনায় রয়েছে ভারত।
প্রশ্নের মুখে পরিবেশ ও স্থানীয় সমাজ(Greater Nicobar Project)
যদিও কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে প্রকল্পটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবুও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য, বিরল প্রাণী এবং স্থানীয় আদিবাসীদের জীবনযাত্রা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদরা। সোনিয়া গান্ধীর মতে, দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সঠিক, তবে তার জন্য “দ্বীপের প্রাকৃতিক ও সামাজিক ভারসাম্যকে বলি দেওয়া চলবে না।”


