Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে ভারতের বোলিং এবংহ সূর্যকুমারের নেতৃত্ব (Suryakumar Yadav)।
সূর্যর দল পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক (Suryakumar Yadav)
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি যদি কোনও দল নজর কেড়ে থাকে তবে সেটা জিম্বাবোয়ে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়াকে সিকান্দার রাজাদের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে। অপরাজিত থেকে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। চলতি বিশ্বকাপে তারা প্রথম হারের মুখোমুখি হয় সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। তারপর ভারতের কাছে। অন্যদিকে ভারতকে প্রথম থেকেই অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবেই ধরা হচ্ছিল কিন্তু অস্বস্তি ভারতের পিছু ছাড়ছে না। প্রত্যেক ম্যাচের পর নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে ভারতীয় শিবিরকে (Suryakumar Yadav)।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে শেষ আট প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জে ভরা। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় রানে হারের পর ভারতকে একদিকে যেমন শেষ দুই ম্যাচে জিততে হতো তেমনই তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ভারতের কাছে স্বস্তির কারণ ছিল। সেই স্বস্তি নিয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামে ভারতীয় শিবির। সেই ম্যাচে ব্যাটাররা পরীক্ষায় পাস করলেও বোলারদের নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেল। শুধুমাত্র বোলারদের না প্রশ্ন উঠছে সূর্যকুমারের নেতৃত্ব নিয়েও। তাঁর দল চালানোর দক্ষতা এবং বোলারদের ব্যবহার করা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ব্রেভিস এবং মিলার জুটি বেঁধে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেই সময় দলের প্রধান পেসার বুমরাকে তিনি বলে আনলেন না। সেই জুটি যদি বড় রানের পার্টনারশিপ না গড়তে পারতো হয়ত খেলার ফলাফল অন্যকিছু হতে পারতো। এরপর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিকে বেনেট ছাড়া আর বাকি ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারেননি। সেখানে বেনেট একাই লড়াই চালিয়ে যান ভারতের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে (Suryakumar Yadav)।
ভারতের বোলারদের রীতিমতো তুলোধনা করছিলেন বেনেট। ৯৭ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলে গেলেন ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে। যদিও ম্যাচ জিততে পারেনি জিম্বাবোয়ে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। প্রথম ম্যাচ বড় ব্যবধানে হারের ফলে নেট রান রেটের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছিল ভারত। সেখানে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বড় রানের ব্যবধানে জিততে পারলে নেট রান রেটের দিক থেকে আরও কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারতো ভারত। কারণ তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় জয়ে নেট রান রেটের বড়সড় বদল হয়। আর ভারতের কাছে সুযোগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইডেনে মাঠে নামার আগে নেট রান রেট এগিয়ে রাখার কিন্তু সূর্যকুমারের ভুল বোলিং পরিচালনায় সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে হলো ভারতকে (Suryakumar Yadav)।

প্রত্যেক ম্যাচে শিবম দুবের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বলের গতিবেগ ব্যাটারদের কোনও সমস্যায় ফেলতে পারছে না। বরং তাঁর বলে রানের গতি বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে বিপক্ষ দল। শিবম দুবে ব্যাট হাতে অবদান রাখতে পারলেও বল হাতে ব্যর্থ। সেখানে একদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অক্ষর প্যাটেলকে বসিয়ে রাখা নিয়ে যেমন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল গম্ভীরকে তেমনই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে অক্ষর প্যাটেলকে খেলালেও শিবম দুবের উপর অতিরিক্ত ভরসাই ভারতের আরও বেশি রানের ব্যবধানে জেতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল (Suryakumar Yadav)।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শিবম দুবে দুই ওভার বল করে রান দেন ৩২। জিম্বাবোয়ের ম্যাচে বুমরা এবং হার্দিকের এক এক করে ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও শেষ ওভার বল করার ভার সূর্যকুমার তুলে দিলেন শিবম দুবের হাতে। তিনি এই ম্যাচে দুই ওভার বল করে খরচ করেছেন ৪৬ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৪টি ওয়াইড এবং দুটি নো বল। সূর্যকুমারের এই অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমর্থকরা। যদি বুমরা এবং হার্দিককে দিয়ে তাঁদের ওভার শেষ করতেন তবে ভারতের কাছে সুযোগ থাকত আরও ১৫-২০ বেশি রানে ম্যাচ জেতার।
আরও পড়ুন: Rashmika Mandanna: বিলাসবহুল রিসর্টে বিয়ে, বিজয়-রশ্মিকার মাসিক ইনকাম কত
যদি ফিটনেস সংক্রান্ত কারণে বুমরা নিজের ওভার পূর্ণ করতে না পারেন তবে তাঁর জায়গায় কেন সিরাজকে খেলানো হচ্ছে না? এর উত্তরও স্পষ্ট নয়। সূর্যর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেই বিষয়ে দলের তরফে কিছু জানানো হয়নি। এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে এটা ভারতীয় দলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নাকি অভিজ্ঞতার অভাব? সময়ের সঙ্গে এই বিষয়গুলি যদি না ঠিক করা হয় তবে কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ফল ভোগ করতে হতে পারে ভারতকে (Suryakumar Yadav)।


