Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শেষ ২০ মিনিটে চারটি গোল করে বসনিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল সুইৎজারল্যান্ড।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের ঝড়
শুরু থেকে যেন অনেক চেষ্টা করেও সফলতা আসছিল না। পরীক্ষার আগের রাতে যেমন সবটা গুলিয়ে যায়, অনেকদিনের পড়াশোনা সবটা মনে হতে থাকে ভুলে যাচ্ছি, পরীক্ষার হলে গিয়েও একই দশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং পরীক্ষা শেষে জয়ের হাসি হেসে হল ত্যাগ। এমনটাই ছিল বসনিয়ার বিরুদ্ধে সুইৎজারল্যান্ডের আজকের ম্যাচ।
প্রথম থেকেই একের পর এক আক্রমণ। বলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। সুযোগ তৈরি কিন্তু এত কিছু করেও সফলতা আসছিল না সুইৎজারল্যান্ড। তবে ওই যে একটা কথা আছে মুহূর্তের খবর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যায় না। তেমনই সব ছবি বদলে গেল কোচ মুরাত ইয়াকিনের একটি মাস্টারস্ট্রোকে। ৭০ মিনিটের মাথায় তিনি তিনটি বদল করলেন আর তাতেই বাজিমাত। শেষ ২০ মিনিটে চারটি গোল করে বসনিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইৎজারল্যান্ড। জিতল ৪-১ ব্যবধানে। জোড়া গোল করে ‘সুপার সাব’-এর সুপারস্টার জোহান মানজাম্বি।
কাতারের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করতে হয়েছিল সুইসদের। তাই বসনিয়ার বিরুদ্ধে সেই ভুল শুধরে নেওয়াই লক্ষ্য ছিল তাঁদের আর সেটাই তাঁরা করে দেখালেন। শুরু থেকেই আক্রমণের পথ বেছে নেন তাঁরা। খেলার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন গ্রানিট জাকা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থদের বল দেওয়া, বিপক্ষের থেকে বল কেড়ে বাকিদের পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ সবই একাই করছিলেন।
বাঁ দিক থেকে বসনিয়ার রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করছিলেন ড্যান এনডোয়ে। কখনও সখনও এনডোয়েকে আটকাতে দু’-তিন জন বসনিয়ার ফুটবলারও চলে যাচ্ছিলেন কিন্তু হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁরা। তবে এত কিছু করেও সুবিধা করতে পারছিল না সুইৎজারল্যান্ড। তার একটাই কারণ, বসনিয়ার জমাট রক্ষণ আর সেই রক্ষণ কিছুতেই ভাঙতে পারছিলেন না সুইসরা। ইটালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আসা বসনিয়া যে সহজে ছেড়ে দেবে না তা বোঝাই গিয়েছিল। বল পেলে বসনিয়া দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠে যাচ্ছিল। বল হারালে দ্রুত নেমে আসছিল নীচে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই তালে খেলা এগোছিল। অনবরত আক্রমণ করেও বসনিয়ার রক্ষণ ভেঙে কাঙ্খিত গোল কিছুতেই আসছিল না। সব বদলে গেল ৭০ মিনিটে। মানজাম্বি ছাড়াও রুবেন ভারগাস এবং জিব্রিল সো-কে নামান সুইস কোচ ইয়াকিন। তার পর সুইৎজারল্যান্ডের আক্রমণ তখন ত্রাস তৈরি করে। তরুণ ফুটবলারদের আক্রমণ ঝাঁজ সামলাতে পারেনি বসনিয়া।
মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করেন মানজাম্বি। একটি আক্রমণ থেকে জোরালো সাইড ভলিতে বল জালে জড়ান। কিছু ক্ষণ পরেই লাল কার্ড দেখেন বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। সেই লাল কার্ড যেন কাল হয় বসনিয়ার।
কিছু ক্ষণ পরেই গোল করেন আর এক পরিবর্ত খেলোয়াড় ভারগাস। ডান দিক থেকে এমবোলোর পাস পেয়ে চলতি বলে শট নিয়ে গোল করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের খেলার শেষ মিনিটে আরও একটি গোল করেন মানজাম্বি।
আরও পড়ুন: Falta: শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পর অ্যাকশনে পুলিশ, ফলতায় গ্রেফতার সংখ্যা বেড়ে ১৬
কিন্তু তখনও ক্লাইম্যাক্স বাকি ছিল। সংযুক্তি সময়ের তৃতীয় মিনিটে একটি গোল শোধ করে বসনিয়া। বক্সের সামান্য ভেতরে একটি ভাসানো বল পেয়ে গোলের মতো শটে গোল করেন এরমিন মাহমিচ। সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি পায় সুইৎজারল্যান্ড। গোল করেন জাকা আর ৪-১ ব্যবধানে জয় হয় সুইসদের।


