Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তিব্বতে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প। চিনের আর্থকুয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার (CENC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩ মিনিট নাগাদ তিব্বত এবং চিনের সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল প্রবল কম্পনে কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৭। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, ফলে কম্পনের তীব্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Tibet Earthquake)।
লাসা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে উৎসস্থল (Tibet Earthquake)
চিনের আর্থকুয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের পার্বত্য এলাকায় ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে হিমবাহ ও পাহাড়ের স্থিতিশীলতার দিকে। শক্তিশালী ভূকম্পনে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামা, পাথর গড়িয়ে পড়া কিংবা হিমবাহের বরফস্তর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগের বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি (Tibet Earthquake)
এই ভূমিকম্প এমন এক সময়ে আঘাত হানল, যখন নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাজা। আগস্টের শেষদিকে ওই অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নদী তীরবর্তী একাধিক উপত্যকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রাণ হারান ১,৪০০-রও বেশি মানুষ। বহু স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক এখনও নিখোঁজ বলে জানা যায়।

হিমবাহ ধসের সঙ্গে কি ভূমিকম্পের যোগ? (Tibet Earthquake)
আগের বিপর্যয়ের পর থেকেই হিমবাহ, ভূমিধস এবং ভূমিকম্পের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী কম্পন বরফ ও পাথরের স্তরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অস্থিতিশীল ঢাল বা হিমবাহের ক্ষেত্রে বড় কম্পন নতুন করে ধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই ভূমিকম্পের কারণে নতুন করে হিমবাহ ধস বা বন্যা হবেই—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও নেই। পরিস্থিতি বুঝতে ভূকম্পন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Manipur Crisis: ফের উত্তপ্ত মণিপুর, গুলিতে কুকি-জো যুবকের মৃত্যু! বাড়িতে আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক
ফের কি পাহাড়ি বিপর্যয়ের আশঙ্কা?
৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বত ও নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে প্রশাসন এবং বিজ্ঞানীদের নজর এখন পাহাড়ের ঢাল, হিমবাহ এবং নদীগুলির দিকে। বড় ভূমিকম্পের পর পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের সম্ভাবনাও থাকে। ফলে নতুন করে ভূমিধস, হিমবাহ ধস কিংবা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হলে তা দ্রুত শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



