Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার গভীর রাতে ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন সেনাবাহিনীর আকাশপথে হামলার পর থেকেই চূড়ান্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে(US Attack On Iran)। হামলার নিশানায় ছিল নাতান্জ, ফোরডো এবং ইসফাহান। এই তীব্র সামরিক পদক্ষেপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) দাবি করেছেন, “ইতিহাসে প্রথমবার এত গভীরে গিয়ে কোনও দেশ এত সফল হামলা চালাতে পেরেছে।” তবে ইরান বলছে, ক্ষয়ক্ষতি নগণ্য এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
ট্রাম্পের জোরালো বার্তা (US Attack On Iran)
রবিবার রাতে ও সোমবার ভোরে নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একের পর এক বার্তা পোস্ট করেন ট্রাম্প(US Attack On Iran)। সেখানে তিনি লেখেন, “ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী মাটির গভীরে প্রবেশ করে লক্ষ্যভেদ করেছে। এর আগে কেউ পারেনি।”এমনকি তিনি দাবি করেন, “এই হামলার পরে ইরানের হাতে কার্যত কোনও পরমাণু বোমা নেই।” ট্রাম্প এই ঘটনাকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের জন্য “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলেও উল্লেখ করেন।
বাস্তব চিত্র কতটা ভয়াবহ? (US Attack On Iran)
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবিগুলির সপক্ষে কোনও নির্ভুল সরকারি তথ্যপ্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি(US Attack On Iran)। পেন্টাগনের তরফে বলা হয়েছে, তিন কেন্দ্রেই বড়সড় ক্ষতি হয়েছে, তবে সঠিক মূল্যায়নে আরও সময় লাগবে। তবে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ ভিন্ন ছবি দিচ্ছে। প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি ও ম্যাক্সার টেকনোলজিস-এর প্রকাশিত ছবিগুলি অনুযায়ী—
- ফোরডো পরমাণুকেন্দ্রের একাধিক প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত। বিস্ফোরণের ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও স্পষ্ট।
- ইসফাহানে, ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে বিস্ফোরণের রক্তিম ঝলকানি। মনে করা হচ্ছে, সেটি একটি সুড়ঙ্গপথের মুখে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ভিডিয়োটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া, নাতান্জ কেন্দ্রেও একটি গভীর গহ্বরের ছবি উঠে এসেছে উপগ্রহচিত্রে। এটি হামলার পর সৃষ্ট বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি।

ইরানের পাল্টা দাবি (US Attack On Iran)
তেহরান এখনও পর্যন্ত হামলায় প্রাণহানি বা তেজস্ক্রিয়তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই জানিয়েছে(US Attack On Iran)। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (AEOI) বিবৃতিতে বলেছে, “তিনটি পরমাণুকেন্দ্রই সুরক্ষিত। জনগণের জন্য কোনও বিপদের কারণ নেই।” তবে হামলার আগেই ফোরডো কেন্দ্রের কাছে কিছু তৎপরতা ধরা পড়ে উপগ্রহচিত্রে। দেখা যায়, ১৯ জুন সেখানে ১৬টি মালবাহী ট্রাক ও বুলডোজ়ার দেখা গিয়েছে। ২০ জুন তা আরও এক কিলোমিটার দূরে সরে যায়। এতে জল্পনা তৈরি হয়েছে—ইরান কি আগাম হামলার আশঙ্কায় সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছিল?

ভবিষ্যতের বার্তা (US Attack On Iran)
হামলার সফলতার দাবি করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প(US Attack On Iran)। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরান আলোচনার টেবিলে না এলে আরও ভয়ঙ্কর হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” সোমবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর।
এই মুহূর্তে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের ‘সফলতম অভিযান’-এর দাবির সত্যতা যাই হোক না কেন, উপগ্রহচিত্র এবং হামলার ভৌগোলিক বিস্তার এই আঘাতকে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক করে তুলেছে। প্রশ্ন একটাই—এর পর কি শান্তি? নাকি আরও ভয়াবহ সংঘাত?


