Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে আমেরিকার আকস্মিক বিমান হানার সিদ্ধান্ত(US Attack On Iran) সত্যিই ‘হঠাৎ’ নেওয়া হয়েছিল? নাকি আগেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত ছিল? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাথায় এই হামলা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য ও জল্পনার ঘূর্ণি। গত বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প (Donald J. Trump) বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। কিন্তু তার আগেই শনিবার গভীর রাতে বোমা বর্ষণ!এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্ত কি শেষ মুহূর্তের? নাকি সেটাও ছিল পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল?
কয়েক মিনিটেই সিদ্ধান্ত (US Attack On Iran)
রবিবার এনবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, “অভিযান শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প(US Attack On Iran)। তিনি চাইলে সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বাতিলও করতে পারতেন। কিন্তু তিনি হামলার পক্ষেই সিলমোহর দেন।” এই বক্তব্যে একদিকে যেমন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই উঠেছে প্রশ্ন—তাহলে দু’সপ্তাহ সময় চাওয়ার ঘোষণাটি কী ছিল শুধুই কূটনৈতিক চাল?
বৈঠকেই তৈরি হয়েছিল ‘নীলনকশা’? (US Attack On Iran)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র আধিকারিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে(US Attack On Iran)। যদিও সেই সময় প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বরং, তিনি চেয়েছিলেন আলোচনার সুযোগ বজায় রাখতে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তবে তা ব্যর্থ হয়। তার পরেই ট্রাম্প প্রশাসন হামলার পরিকল্পনা সক্রিয় করে তোলে। সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয় এবং পরবর্তী তিন দিনেই তৈরি হয় অভিযান চালানোর কৌশল।

‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বললেন ট্রাম্প (US Attack On Iran)
হামলার পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টেলিভিশন বিবৃতিতে একে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে ব্যাখ্যা করেন(US Attack On Iran)। তাঁর দাবি, “ইরান বারবার আমেরিকা ও আমাদের মিত্রদের হুমকি দিয়েছে। আমরা আর প্রতীক্ষা করিনি। আমাদের সহনশীলতার সীমা পেরিয়ে গিয়েছে।”এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক প্রতিক্রিয়ার পক্ষে মনস্থির করেছিলেন, সময় খুঁজছিলেন শুধু।

ভাইস প্রেসিডেন্টের বার্তা (US Attack On Iran)
ভান্স জানিয়েছেন, “এই মুহূর্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হোয়াইট হাউস এখন ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা কোথায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে, কাদের টার্গেট করতে পারে—সবই নজরে রাখা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইরান কেমন প্রতিক্রিয়া জানায়, তার উপর নির্ভর করছে পরবর্তী মার্কিন কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা।”
ট্রাম্পের ‘শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত’ (US Attack On Iran)
সর্বোপরি, ট্রাম্পের ‘শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত’ ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে(US Attack On Iran)। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই হঠাৎ আঘাত ইরানকে আলোচনার টেবিলে টানতে চাপ তৈরি করবে। অন্য দিকে, সমালোচকদের প্রশ্ন—এই হামলা কি ‘দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া’র ঘোষণাকে বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে বঞ্চিত করল না? আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরান যদি পাল্টা আক্রমণে নামে, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় এক ভয়ঙ্কর পর্বের সূচনা হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।


