Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের সাম্প্রতিক গণআন্দোলন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয় (US-Iran), এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক নগ্ন উদাহরণ। লাখ লাখ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন একটি বিশ্বাসের ওপর ভর করে বিশ্বাস ছিল, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে। সেই বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই বিশ্বাসই পরিণত হয়েছে গভীর ক্ষোভ ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ (US-Iran)
গত বছরের একেবারে শেষে ইরানে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং ভেঙে পড়া ব্যবসায়িক কাঠামো সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তুলেছিল। প্রথমে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামলেও খুব দ্রুত সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র, শ্রমিক, নারী এবং মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে। এই আন্দোলন আর শুধু পেটের দায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় রাজনৈতিক বিদ্রোহে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ইরানের রাজপথ।
দমন-পীড়নের ভয়াবহ অধ্যায় (US-Iran)
ইরান সরকার শুরু থেকেই আন্দোলন দমনে কঠোর পথ বেছে নেয়। দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে আন্দোলনকারীরা সংগঠিত হতে না পারেন এবং বাইরের বিশ্ব প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে না পারে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। শুধু গুলি বা গ্রেফতারেই থেমে থাকেনি দমননীতি। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকিও দেয় খামেনেই সরকার। ফাঁসির মঞ্চ হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় আতঙ্কের প্রতীক। এই সময়েই আন্তর্জাতিক মহলের নজর পড়ে ইরানের দিকে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও আন্দোলনকারীদের আশা (US-Iran)
এই সংকটকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন ইরান সরকারকে। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানো হবে। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ইরানে নতুন করে সাহস পায় আন্দোলনকারীরা। অনেকের বিশ্বাস ছিল, ঠিক যেমন অতীতে কিছু দেশে সরকার পতনে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হয়েছে, তেমনটাই ঘটবে ইরানেও। আন্দোলনকারীদের একাংশ স্পষ্টই বলেন ট্রাম্পের এই ‘আশ্বাস’ না থাকলে এত মানুষ হয়তো রাস্তায় নামতেন না।
সুর বদল ও ‘ধন্যবাদ’ বিতর্ক (US-Iran)
কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎই পাল্টে যায়। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরান সরকার তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। তাই সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, ইরান সরকারকে তিনি ‘ধন্যবাদ’ও জানান। এই মন্তব্য ইরানের আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়। তাঁদের চোখে এটি নিছক কূটনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। তেহরানের এক ব্যবসায়ীর ভাষায়, “১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর দায় ট্রাম্পেরও। তাঁর কথায় ভরসা করেই মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।” এক মহিলা আন্দোলনকারীর হতাশ স্বীকারোক্তি আরও তীব্র “ট্রাম্প ইরান সরকারের থেকেও খারাপ। আমাদের ব্যবহার করেছে, তারপর ছেড়ে দিয়েছে।”
ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ইরান সরকারের সিলমোহর? (US-Iran)
খামেনেই সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, এই আন্দোলনের পেছনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ষড়যন্ত্র রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম দিকের হুঁশিয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে সুর বদলের ঘটনায় সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রকাশ ইরান সরকারের সেই বক্তব্যকে কার্যত বিশ্বাসযোগ্যতা দিচ্ছে এমনটাই মত একাংশের। যদিও আন্দোলনকারীদের আরেক অংশ মনে করছে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবেই কৌশল বদল করছেন, যাতে ইরান সরকার নিরাপত্তা শিথিল করে এবং তখন বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত
ট্রাম্পের ‘ধন্যবাদ’ জানানোর পরেও ইরান সরকার কোনও রকম নমনীয়তা দেখায়নি। বরং খামেনেই সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন এবং আন্দোলনে মৃত্যুর জন্য তাঁকেই দায়ী করেছেন। এর পালটা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ফের সুর চড়ান। তাঁর মন্তব্য “ইরানে সরকার বদলের সময় এসে গিয়েছে” নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।



