Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের পর্যটন ইতিহাসে ২০২৫ সাল এক বিশেষ মাইলফলক (Uttar Pradesh)। এই বছর কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষস্থান দখল করেছে উত্তরপ্রদেশ। বহুদিন ধরেই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকলেও, পরিকল্পিত আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ নিজেকে দেশের এক নম্বর পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। এই সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সরকারি উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সুচিন্তিত প্রয়াসের ফল।

পর্যটকের সংখ্যায় রেকর্ড (Uttar Pradesh)
২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশে ভ্রমণ করেছেন ১৩৭ কোটিরও বেশি দেশি পর্যটক। একই সঙ্গে রাজ্যে আগত বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ভারতের কোনও রাজ্যে এক বছরে এত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন বিরল ঘটনা। এই বিপুল পর্যটক প্রবাহের ফলে রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। হোটেল, পরিবহণ, খাদ্য পরিষেবা, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় ব্যবসায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যটন আজ উত্তরপ্রদেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ (Uttar Pradesh)
উত্তরপ্রদেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলা। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভে ৬৬ কোটিরও বেশি পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে, যা বিশ্ব ইতিহাসে বৃহত্তম মানবসমাবেশ হিসেবে স্বীকৃত। গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমে আয়োজিত এই মহাকুম্ভ শুধু ধর্মীয় আস্থার প্রতীক নয়, বরং ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক বিরাট প্রদর্শন। আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং সুবিন্যস্ত যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে মহাকুম্ভ পরিচালনায় উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রশংসা কুড়িয়েছে দেশ-বিদেশে।
রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নবজাগরণ (Uttar Pradesh)
অযোধ্যা আজ উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। রামমন্দির নির্মাণের পর থেকেই অযোধ্যায় পর্যটক ও ভক্তদের ঢল নেমেছে। দীপোৎসব, সরযূ নদীর ঘাট সংস্কার এবং নতুন সড়ক ও বিমানবন্দর পরিকাঠামো অযোধ্যাকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বিশেষ করে অযোধ্যার দীপোৎসব গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেওয়ার পর বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আরও বেশি করে আকৃষ্ট হয়েছে এই প্রাচীন নগরের দিকে।

চিরাচরিত কাশীর আধুনিক রূপান্তর (Uttar Pradesh)
বারাণসী বা কাশী ভারতের প্রাচীনতম শহরগুলোর অন্যতম। যোগী সরকারের আমলে কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডর নির্মাণ এবং গঙ্গার ঘাটগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন বারাণসীকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। রামলীলা, গঙ্গা আরতি, ঐতিহাসিক মন্দির এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধন বারাণসীকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বারাণসীর রামলীলা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তোলায় এই শহরের পর্যটন গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমিতে পর্যটনের প্রসার (Uttar Pradesh)
মথুরা ও বৃন্দাবন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি ও লীলাক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার মন্দির, রাসলীলা, হোলি উৎসব এবং ভক্তিমূলক সংস্কৃতি পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার এবং পর্যটক সুবিধা বৃদ্ধির ফলে এই অঞ্চলে এখন সারা বছরই পর্যটকের ভিড় দেখা যায়।
পর্যটন উন্নয়নে যোগী সরকারের বিনিয়োগ (Uttar Pradesh)
উত্তরপ্রদেশ সরকার পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে ১২৮৩.৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বারাণসীর ঐতিহাসিক ঘাটগুলোর আধুনিকীকরণ, রাম বনগমন মার্গে পর্যটক সুবিধা কেন্দ্র নির্মাণ, বিমান, রেল ও বাস পরিষেবার সম্প্রসারণ, উন্নত মানের হোটেল ও হোম-স্টে ব্যবস্থার প্রসার, এই উদ্যোগগুলোর ফলে উত্তরপ্রদেশে পর্যটন ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত ও পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
পর্যটন সমবায় প্রকল্প
মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন উন্নয়ন সমবায় প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষদের এই উন্নয়নের সরাসরি অংশীদার করা হয়েছে। এর ফলে, স্থানীয় কারিগর ও শিল্পীরা নতুন বাজার পাচ্ছেন, গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে, হস্তশিল্প ও লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ হচ্ছে, পর্যটন এখন উত্তরপ্রদেশে কেবল দর্শনের বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার।



