Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা-এ নেমে এসেছে এক নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Venezuela Earthquakes)। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা এই জোড়া ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং আহত হয়েছেন ৭০০-রও বেশি মানুষ। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা।
কেন এই ভূমিকম্প এতটা ব্যতিক্রমী? (Venezuela Earthquakes)
সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পরে একাধিক আফটারশক দেখা যায়। কিন্তু ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। প্রথমে রিখটার স্কেলে ৭.২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয় এবং তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে আঘাত হানে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূতত্ত্ববিদরা এই বিরল ঘটনাকে বলছেন “ডাবলেট আর্থকোয়েক” বা দ্বৈত ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর মতে, প্রথমটি ছিল একটি শক্তিশালী ফোরশক এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল ভূমিকম্প বা মেইনশক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’টি বড় ভূমিকম্প হওয়া অত্যন্ত বিরল। ফলে প্রথম কম্পনের ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ল বহুতল (Venezuela Earthquakes)
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম কম্পনের পরই রাজধানীর একাধিক বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়তে শুরু করে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বহু এলাকায়। আতঙ্কিত মানুষ যখন রাস্তায় বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, তখনই দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে বহু মানুষ নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর সুযোগই পাননি। কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় বহু আবাসন, বাণিজ্যিক ভবন এবং সরকারি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় রাস্তা ফেটে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও দীর্ঘ সময় অচল ছিল।

“সিঁড়িগুলো আলাদা হয়ে যাচ্ছিল”
ভূমিকম্পের সেই আতঙ্কের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ৫৪ বছর বয়সি ব্যাঙ্ককর্মী ওদালিস এসকালোনা বলেন, “হঠাৎ দেখলাম সিঁড়িগুলো ভেঙে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। পুরো দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরে গেল। সিলিং থেকে জিনিসপত্র হুড়মুড় করে পড়তে শুরু করল। অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ভূমিকম্পের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে অনেকেই প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিক জীবন পরিণত হয় মৃত্যুভয়ের লড়াইয়ে।
বিমানবন্দরেও আতঙ্কের দৃশ্য (Venezuela Earthquakes)
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ পুরো টার্মিনাল ভবন দোলনার মতো দুলতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মানুষ দৌড়াতে শুরু করেন, কেউ মাটিতে বসে পড়েন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভূমিকম্পের জেরে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীদের সময়ের সঙ্গে লড়াই (Venezuela Earthquakes)
ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ধসে পড়া বহুতল ভবনের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বহু এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন।

আরও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা (Venezuela Earthquakes)
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) সতর্ক করে বলেছে, এই ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর এবং অনেক অঞ্চলে এখনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
প্রকৃতির সামনে অসহায় মানুষ
ভেনেজুয়েলার এই ‘ডাবলেট’ ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, প্রকৃতির প্রচণ্ড শক্তির সামনে মানুষ কতটা অসহায়। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প একটি দেশের স্বাভাবিক জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। এখন গোটা বিশ্বের নজর ভেনেজুয়েলার দিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা এবং বিপর্যস্ত জনজীবনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কঠিন চ্যালেঞ্জের দিকে।



