Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিনোদ কাম্বলির স্নায়ুর সমস্যার কারণে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি (Vinod Kambli)।
ভাল নেই কাম্বলি (Vinod Kambli)
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে যাবে। ভারতীয় ক্রিকেটে সেই সময় সাড়া ফেলে দিয়েছেন দুই তরুণ প্রতিভা। ১৯৯৩ সালে টেস্ট অভিষেক, তারপর আটটি টেস্ট ইনিংসে দুটো দ্বিশতরান এবং দুটো সেঞ্চুরি। মাত্র ২৪ বছর পেরোনোর আগেই খেলে ফেললেন দেশের ১৭টি টেস্ট। এর আগে থেকেই তিনি স্টার। ক্রিকেট বিশ্ব তাঁর নাম জেনে ফেলেছে ধীরে ধীরে। এই প্রতিভা শেষ ম্যাচ খেললেন ১৯৯৫-এ। দেশের হয়ে ফিরলেন না আর মাঠে। কিন্তু তাঁর নামের পাশে তখন রয়েছে ১,০৮৪ রান (Vinod Kambli)।
তাঁর জীবনে রয়েছে বৈপরীত্য আর বৈপরীত্য মোটেও বিস্ময় জাগায়নি। এটাই তাঁর ভবিতব্য ছিল। কারণ তিনি এমন এক প্রতিভা যা লাগাম ছাড়া ঘোড়া। সংযমহীন এক বিরল প্রতিভার উদাহরণ হয়ে থেকে যাবেন বিনোদ কাম্বলি। ধূমকেতুর গতিতে উত্থান আর ঝলসে যাওয়া আলোয় নিমেষে হারিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর ললাটে। যার জন্য অনেকাংশেই তিনি দায়ী। আর বিধির বাঁধন ভাঙবে কী করে সে?
নিজের জীবনের বিনিময় প্রতিভার অপচয় করে সকলের জন্য নিজের জীবনের পাতা তিনি সদাই রেখে দিয়েছেন। সেখানে যে যার মত করে কখনও লিখেছে সমালোচনা আবার কখনও লিখেছেন প্রতিভা থাকলেই হয় না এর সঙ্গে দরকার কঠোর পরিশ্রম এবং সংযম। যে আগুনে ছাই হলেন এই প্রতিভা, সেই আগুনেই যেন পুড়ে খাঁটি হয়ে উঠলেন তাঁর বন্ধু শচীন তেন্ডুলকার। শচীন যখন ক্রিকেটের ঈশ্বর তখন বিনোদ হারিয়ে গিয়েছেন কালের অমোঘ নিয়মে, অন্ধকারের তলানিতে (Vinod Kambli)।

ভাল নেই ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান প্রাক্তন ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলি। গুরুতর অসুস্থ তিনি। দীর্ঘ বছর ধরেই তিনি শারীরিক এবং মানসিক সমস্যায় জর্জরিত। বছর দেড়েক আগে গুরুত্ব অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। এরপর একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ফের অসুস্থ তিনি। তবে এখন জানা যাচ্ছে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে প্রাক্তন ক্রিকেটারের। যার জেরে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্রমশ। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্কাস কুটো জানিয়েছেন, কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে।
কাম্বলির ওই বন্ধু জানিয়েছেন, ‘আমরা ওর বন্ধুদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছি। মূলত প্রাক্তন ক্রিকেটাররাই সেখানে রয়েছেন। কেউ নাম প্রকাশ না করে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করছেন। ওর স্মৃতিশক্তি খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই। তবে স্বস্তির বিষয়, গত ছ’মাসে তার আর অবনতি হয়নি। কখনও কখনও ওর কিছু মনে পড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই সমস্যা হয়। বিনোদের মস্তিষ্কে একটি ক্লট রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ওর ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (Vinod Kambli)।’
তিনি আরও বলেছেন ‘এক বিখ্যাত নিউরোসার্জন জানিয়েছেন, বিনোদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ে ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এখন ও মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছে। তবুও মাঝেমধ্যে সিগারেট চায়। বর্তমানে তাঁর সমস্যা মস্তিষ্কে। যার প্রভাবেই শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: Raghav Chadha: পাঞ্জাব সরকার সরাল রাঘবের সিকিউরিটি, সেই দায়িত্ব নিল কেন্দ্র
কাম্বলির বন্ধু আরও বলেছেন, ‘বলবিন্দর সিং সান্ধু বিষয়টি দেখছিলেন। ১৯৮৩ সালের দল মিলে ওকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। পনভেলের এক চিকিৎসক ১১ মাসের একটি রিহ্যাব পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, সেই খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। কপিল দেব ওকে হরিয়ানার রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল সেটা সমাধান নয়। চিকিৎসকরা জানান, ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কার কারণে ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।’ কাম্বলিই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তাঁর সুস্থতার প্রার্থনা করছেন এই মুহূর্তে সকলে (Vinod Kambli)।


