Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য্য: পুজোর কাউন্টডাউন শুরু (Weather Alert), আর তার মধ্যেই আবহাওয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ! তৃতীয়া পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলেও চতুর্থী থেকেই বদলাতে পারে আবহাওয়ার মেজাজ। মেঘলা আকাশ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, সঙ্গে দমকা হাওয়া- পুজোর আনন্দে সাময়িক ছেদ পড়ার আশঙ্কা। তবে চিন্তার কিছুটা অবসান সপ্তমীর পর থেকেই। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত মিলতে পারে শরতের আদর্শ পরিবেশ। তাহলে কোন দিন কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা? কখন থেকে নিশ্চিন্তে ঠাকুর দেখা যাবে?
তৃতীয়া পর্যন্ত স্বস্তি, তারপরেই বদল! (Weather Alert)
পুজোর প্রথম দিকে আবহাওয়া থাকবে (Weather Alert) বেশ মনোরম। মঙ্গলবার তৃতীয়া পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। ভোরে থাকবে হালকা শিরশিরানি ভাব, কোথাও কোথাও দেখা যেতে পারে হালকা কুয়াশা। দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নীচে থাকার সম্ভাবনা। ফলে তৃতীয়া পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ঠাকুর দেখার সুযোগ থাকছে।
তবে এর মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার তৈরি হতে পারে একটি নিম্নচাপ। আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই ঘনীভূত হয়েছে। এই নিম্নচাপের অভিমুখ তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে থাকার সম্ভাবনা। এর প্রভাবে বাংলার আবহাওয়ায় কতটা পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর।
চতুর্থী: মেঘলা আকাশ, সঙ্গে দমকা হাওয়া (Weather Alert)
বুধবার চতুর্থী থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন (Weather Alert) শুরু হতে পারে। প্রথমে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বিকেলের পর বাড়বে মেঘের দাপট। উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
পঞ্চমী ও ষষ্ঠী: বাড়বে বৃষ্টির সম্ভাবনা (Weather Alert)
বৃহস্পতিবার পঞ্চমীতে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, (Weather Alert) উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উপকূলবর্তী ও ওড়িশা লাগোয়া জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
শুক্রবার ষষ্ঠীতে পরিস্থিতি আরও কিছুটা প্রতিকূল হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনায় সাময়িক ছেদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে। যদিও ভারী বৃষ্টি কিংবা একটানা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই পূর্বাভাস।
সপ্তমী থেকেই স্বস্তি ফেরার ইঙ্গিত
শনিবার সপ্তমীর সকালে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা। বিকেলের পর বাতাসে জলীয় বাষ্প কমলে আবহাওয়া হয়ে উঠতে পারে আরও মনোরম।
রবিবার সপ্তমীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ভোরে হালকা কুয়াশা, বাতাসে শিরশিরানি ভাব আর রাতের তাপমাত্রায় সামান্য পতন— সব মিলিয়ে পুজোর আদর্শ পরিবেশ ফেরার আশা।
অষ্টমী থেকে দশমী: বৃষ্টির ভয় কার্যত নেই!
সোমবার অষ্টমী থেকে আবহাওয়া আরও অনুকূল হওয়ার সম্ভাবনা। বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন: Navaratri Garba: চনিয়া চোলি থেকে কেডিয়ু, নবরাত্রি মাতায় গরবার তাল!
নবমী ও দশমীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর শেষ কয়েকটি দিন কাটতে পারে শরতের চেনা নীল আকাশ আর মনোরম আবহাওয়ায়।
সব মিলিয়ে, তৃতীয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ঠাকুর দেখা গেলেও চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত ছাতা সঙ্গে রাখাই ভালো। আর সপ্তমীর পর থেকে অষ্টমী, নবমী ও দশমী— পুজোর বাকি দিনগুলিতে স্বস্তির আবহাওয়ার দিকেই তাকিয়ে বাংলার মানুষ।


