Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য্য: একদিকে দুর্গাপুজোর উৎসব, (Dengue News) অন্যদিকে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত! রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০ হাজার পার। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মুর্শিদাবাদ-একাধিক জেলায় সংক্রমণের ছবি চিন্তা বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার শুধু পুরসভা বা পঞ্চায়েত নয়, সতর্ক করা হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকেও। জমা জল পরিষ্কার থেকে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই কড়া নজরদারির নির্দেশ। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সতর্ক থাকার বার্তা প্রশাসনকে। কিন্তু উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গির মোকাবিলায় ঠিক কী কী পদক্ষেপ করতে হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর।
পুজোর মুখে বাড়ছে উদ্বেগ (Dengue News)
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান (Dengue News) অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৭৭। ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। তাঁদের মধ্যে অক্টোবরে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। ফলে উৎসবের মরশুমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
কোথায় আশঙ্কা বেশি? (Dengue News)
রাজ্যের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে উদ্বেগ (Dengue News) বাড়াচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই জেলায় ৬৮৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। তার মধ্যে শেষ তিন সপ্তাহেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৩১। বিধাননগর, বাগদা, বনগাঁ ও দেগঙ্গার মতো এলাকায় সংক্রমণের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদেও বাড়ছে ডেঙ্গির (Dengue News) দাপট। স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্ষার পর জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
পুজো কমিটিগুলিকে সতর্কবার্তা, নজরদারিতে জোর (Dengue News)
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং জেলা প্রশাসনকে (Dengue News) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকেও ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুজো মণ্ডপ ও তার আশপাশে কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হচ্ছে। মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ, ডেঙ্গি প্রতিরোধে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরসভা ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জমা জল পরিষ্কার, মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান
ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় সাফাই অভিযান, জমা জল অপসারণ এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় জল জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোলা কিংবা অন্য কোনও পাত্রে জমে থাকা জল থেকেও মশার বংশবৃদ্ধি হতে পারে।
জ্বর হলেই সতর্ক হোন
স্বাস্থ্য আধিকারিকদের পরামর্শ, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলাই জরুরি।
আরও পড়ুন: Dhruv Rathee: ‘ভারতীয় নাগরিক ছিলাম, আছি, থাকব’, মুক্তির পর স্পষ্ট ঘোষণা ধ্রুব রাঠীর
সব মিলিয়ে, পুজোর আনন্দের মাঝেই ডেঙ্গি মোকাবিলা এখন স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করা যায়, তার উপরেই নির্ভর করছে সংক্রমণ রোখার লড়াই।


