Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুভ চক্রবর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি (West Midnapore Flood) এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারেজ এবং মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে ফুঁসছে সুবর্ণরেখা ও কেলেঘাই নদী। নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করে একাধিক এলাকায় ঢুকে পড়ায় নারায়ণগড়, সবং, মোহনপুর, দাঁতন-সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন।
স্থানীয় সূত্রে খবর (West Midnapore Flood)
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে (West Midnapore Flood) বহু এলাকা জলবন্দি হয়ে রয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি জল পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জলমগ্ন হয়েছে রামপুরা, লাড়ু, সারদা-সহ একাধিক গ্রাম। অনেক জায়গায় বাড়ির উঠোন ছাড়িয়ে ঘরের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে জল।বিপদসীমা ছাড়িয়েছে কেলেঘাই নদীর জল দাঁতন-১ ব্লকের বেলমুলা, আইকোলা-সহ একাধিক এলাকা এবং দাঁতন-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশেও একই ছবি। মোহনপুরের গোমুন্ডা অঞ্চলের বহু বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে নারায়ণগড় এলাকাতেও কেলেঘাই নদীর জল বিপদসীমা ছাপিয়ে বাঁধ উপচে গ্রামগুলিতে ঢুকছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জলমগ্ন রাস্তাঘাটের কারণে বাইরের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশ কিছু গ্রাম।

বন্যার জেরে সমস্যায় বাসিন্দারা (West Midnapore Flood)
বন্যার জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিচু (West Midnapore Flood) এলাকার বাসিন্দারা। বহু পাকা বাড়ির একতলা জলের নিচে চলে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকট। স্বাভাবিক জনজীবন ও দৈনন্দিন কাজকর্মও কার্যত স্তব্ধ। বন্যাকবলিত একাধিক এলাকায় স্কুলও বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তৎপর জেলা প্রশাসন
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। দুর্গত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে ত্রাণশিবির। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, পানীয় জল, ওষুধপত্র-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলবাহিত রোগের আশঙ্কা থাকায় স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় চিকিৎসকদের বিশেষ দল পাঠিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Annapurna Bahini: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার প্রতি ওয়ার্ডে ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’
এরই মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সবংয়ের ১৩ নম্বর বিষ্ণুপুর অঞ্চলের মগরাজপুর, লহরিচক ও কুলভেড়ি-সহ জলমগ্ন এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা এবং সবংয়ের বিধায়ক অমল পাণ্ডা। দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁরা পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীগুলির জলস্তর দ্রুত না কমলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জলাধার থেকে নতুন করে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়লে নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের পাশাপাশি নজর রয়েছে সাধারণ মানুষেরও।


