Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ম্যাচ জিতে আশা জিইয়ে রাখল বসনিয়া। হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই থামল কাতারের (World Cup)
কানাডা বনাম সুইৎজারল্যান্ড
বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ শুরু হয় একসঙ্গে। এর কারণ অন্য ম্যাচের ফল দেখে কোনও দল যাতে বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে এবং কোনওরকম অসঙ্গত কিছু না ঘটে সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। সেই কারণ মত একদিকে যেমন হল সুইৎজারল্যান্ড-কানাডা ম্যাচ তেমন অন্যদিকে চলল বসনিয়া-কাতার ম্যাচ।
কানাডাকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’র এক নম্বর দল হিসাবে নকআউটে জায়গা করে নিল সুইসরা। রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরাও। আরেকটি ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের যাওয়ার আশা এখনও বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া।
সুইৎজারল্যান্ড-কানাডা ম্যাচে দুই দলের কাছেই সুযোগ ছিল ম্যাচ জিতে শীর্ষ স্থান দখলের। সেই কারণেই দুই দলকে প্রথম থেকে কিছুটা সাবধানী মনোভাব নিয়ে খেলা শুরু করতে দেখা যায় এই দিন। কানাডার থেকে কিছুটা বেশি আগ্রাসী ভাব দেখায় সুইসরা। প্রথম হাফে দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। গোল শূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটা বদলাতে থাকে দ্রুত। এই হাফের শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপায় সুইৎজারল্যান্ড। আক্রমণের ফলও মেলে হাতেনাতে। খেলা শুরুর ১ মিনিটের মধ্যে রুবেন ভার্গাসের গোলে এগিয়ে যায় সুইসরা। এগিয়ে যাওয়ার পর কানাডাকে আরও চেপে ধরার পথে হাঁটেন তাঁরা।
সেই সময় একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। সেই পরিকল্পনাও তাঁদের সফল হয়। ৫৭ মিনিটে সুইৎজারল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় গোল জোহান মানজাম্বির। ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরা, লড়াই চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত। ৭৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে নাথান সালিবার কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন প্রমিস ডেভিড। চেষ্টা করেও আর গোল করতে পারেনি কোনও দল। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেষ করল সুইৎজারল্যান্ড। হারলেও গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল কানাডা। তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪।
বসনিয়া-কাতার
একদিকে যখন এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ খেলছে সেই মুহূর্তে আবার খেলছে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। সেই কাতারের বিরুদ্ধে সহজ জয় ছিনিয়ে নিল বসনিয়া। প্রথম থেকেই কাতারকে চাপে রাখেন বসনিয়ার প্লেয়াররা। সেই চাপ কাটিয়ে বেরোতে পারেনি কাতার।
ম্যাচ শুরুর ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন কেরিম আলাইবেগোভিচ। ৫ মিনিটের ব্যবধানে লিড বাড়িয়ে নেন তাঁরা। কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেক বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে চাপের মুখে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। এই বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই সাক্ষী থাকছে বহু ম্যাচে আত্মঘাতী গোলের। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আত্রমণের মাত্রা বাড়ায় কাতার। ৪২ মিনিটের মাথায় হাসান আল-হেইদোসের গোলে ব্যবধান কমায় কাতার। ৮০ মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন আরমিন মাহমিচ।
কাতার জিততে পারলে সুযোগ থাকত পরের পর্বে যাওয়ার। কিন্তু তিন ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল কাতার। অন্যদিকে বসনিয়ার পয়েন্ট তিন ম্যাচে ৪। গোল পার্থক্যে কানাডার থেকে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় হল তারা। তৃতীয় স্থানে শেষ করা আটটি দল নকআউটে যাবে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখন অন্য গ্রুপগুলির ম্যাচের ফলাফল কী হয় সেই দিকে নজর রাখতে হবে বসনিয়াকে।


