Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেইমারের প্রত্যাবর্তনের দিনে ভিনি ম্যাজিক। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে দাপুটে জয় তুলে নিল ব্রাজিল।
সাম্বা ঝড়ে উড়ল স্কটল্যান্ড
২০২৩ সাল, এরপর কেটে গেছে দীর্য আড়াই বছর। সবার একটাই অপেক্ষা কবে আবার মাঠে ফিরবেন নেইমার। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেইমার আর গ্যালারি জুড়ে সাম্বা ঝড়। সেই ঝড়ে আজ মায়ামিতে বসন্ত।
কাকতালীয় ভাবে আজকের খেলা ছিল মেসির ডেরায় আর সেখানেই ফিরলেন নেইমার। তারকা ফুটবলারের প্রত্যাবর্তনের দিনে আরও আবারও জ্বলে উঠলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তাঁর জোড়া গোলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় তুলে নিল ব্রাজিল। ৩-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে গেল কার্লো আন্সেলোত্তির ব্রাজিল। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা ৪। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সমস্ত ম্যাচে গোল করে রোমারিও, রোনাল্ডো, রিভাল্ডোর রেকর্ড স্পর্শ করলেন ভিনি। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অজেয় থাকার রেকর্ডও বজায় রাখল ব্রাজিল।
আরও পড়ুন: Vaibhav Sooryavanshi: ভারতীয় সিনিয়র দলে দেখা যাবে সূর্যবংশীর বৈভব
এই ম্যাচ একজন হার্ডকোর ব্রাজিল সমর্থকের হয়ত মন ভরবে না তবে ব্রাজিল যে এবার চ্যালেঞ্জ দিতে প্রস্তুত সেটা এই ম্যাচে বুঝিয়ে দিল। চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলেননি রাফিনিয়া। তাঁর জায়গায় রায়ানকে খেলান কার্লো আন্সেলোত্তি। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যাচে সাত মিনিটেই লিড নেয় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগে বল পেয়ে যান ভিনি। গোলকিপারকে টপকে জালে বল জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি এই তারকা উইঙ্গার। তিনি যে এই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম রাইসিং স্টার সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তাঁর গোলেই ম্যাচের ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। আজ তাঁর হ্যাটট্রিক হত যদি না সুযোগ হাতছাড়া করতেন। ২০ মিনিটে ফের একবার গোল করেন ভিনি। তবে ভিনি আগে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার হেন্দ্রিককে ফাউল করায় ভার চেক করে এই গোল বাতিল করেন রেফারি। গোল খেলেও আক্রমণ শানাচ্ছিলেন স্কটল্যান্ডের রবার্টসন, ম্যাকটমিনে, ম্যাকগিনরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
তবে প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে ফের জ্বলে ওঠেন ভিনি। স্কটিশ ডিফেন্ডারদের ভুলে ডান প্রান্তে বল পেয়ে যান ব্রনো গিমারায়েস। তাঁর লব করা বল আটকাতে গিয়ে অনেক আগেই আউটিং করে বসেন স্কটিশ গোলকিপার। দুরন্ত রানে নিজের মার্কারকে টপকে মাপা হেডে গোল করেন ভিনিসিয়াস। ২-০ গোলে শেষ হয় প্রথমার্ধ। তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় ম্যাচের দেওয়াল লিখন বাকিটা ছিল সময়ের অপেক্ষা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের খেলা আরও যেন গতি পায়। এই হাফেও খেলার গতিপ্রকৃতি পাল্টায়নি। দুই উইং থেকে বারবার স্কটল্যান্ডের রক্ষণে হানা দেন ভিনি ও রায়ান। মাঝমাঠে নজর কাড়েন ব্রুনো ও লুকাস পাকুয়েতা, যে ভারসাম্য নিয়ে বা ব্রাজিলের খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল আজ সেসবের উত্তর তাঁরা দিয়ে এলেন। ৬০ মিনিটের মাথায় তৃতীয় গোল তুলে নেয় ব্রাজিল। কাউন্টার অ্যাটাকে বল পেয়ে আক্রমণে ওঠেন ব্রুনো। তবে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে শট নেননি তিনি। ডানদিকে বাড়িয়ে দেন মাথিউস কুনহাকে। গোলকিপারের নাগাল এড়িয়ে কোণাকুণি নিখুঁত শটে ফিনিশ করেন কুনহা।
তবে সব ব্রাজিল সমর্থকরা যে মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন, তা আসে ৭৬ মিনিটে। মাথিউস কুনহাকে তুলে নিয়ে নেইমারকে নামান আন্সেলোত্তি। সেই সময় গ্যালারি জুড়ে উচ্ছ্বাসে ও হাততালিতে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম আর সেই শব্দ যেন পাওয়া যাচ্ছে ভারত এবং কলকাতার গলিতে। প্রায় ১৮-২০ মিনিট মাঠে ছিলেন নেইমার। বেশ কয়েকটি টাচ ও থ্রু বল বাড়িয়ে নজর কাড়েন তিনি।
শেষে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি সেলেকাওরা। হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করেন ভিনি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নকআউটে গেল তারা। ভিনির ম্যাজিক আর নেইমারের প্রত্যাবর্তনে এবার ব্রাজিলকে বলাই যায় অন্যতম ফেভারিট।


