Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গান গেয়ে উপার্জনের স্বপ্ন দোখানো হয়েছিল। সেই প্রলোভনে পা দিয়েই কার্যত নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হল নাবালিকাকে। গড়ফার হোটেলে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন আটকে রেখে তাকে মধুচক্রে (Human Trafficking) নামানোর ছক কষেছিল ৪ হোটেল কর্মী। তবে শেষরক্ষা হল না। নাবালিকার থেকে বার্তা পেয়েই তড়িঘড়ি অভিযানে নামে কলকাতা পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। গ্রেফতার করা হয় চার অভিযুক্তকে।
প্রচুর টাকা উপার্জনের টোপ (Human Trafficking)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গড়ফার হোটেলের এই ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। ধৃত চার অভিযুক্তের নাম আশিস ভরদ্বাজ, শেখ সাহাবুদ্দিন, মুজ্জাফর হোসেন এবং স্বরূপ দাস। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত নাবালিকা স্থানীয় পানশালায় গান গাইত। সেখানেই তার ওপর নজর পড়ে হোটেল কর্মীদের। গড়ফার হোটেলে গান গাইলে প্রচুর টাকা উপার্জনের টোপ দেয় তারা। নাবালিকা রাজি হতেই তাকে নিয়ে এসে হোটেলের ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। অভিযোগ, সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে আটকে রেখে তাকে ব্ল্যাকমেল করা এবং খদ্দের ধরে যৌন ব্যবসায় নামানোর চক্রান্ত (Human Trafficking) শুরু হয়েছিল।
নিজের বুদ্ধিতেই বাজিমাত
কিন্তু অভিযুক্তদের ছক ভেস্তে যায় নাবালিকার উপস্থিত বুদ্ধিতে। বন্দিদশা থেকেই লুকিয়ে পরিচিতের কাছে খবর পাঠায় সে। সেই পরিচিত ব্যক্তি দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে লালবাজারে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানান (Human Trafficking)। লালবাজারের নির্দেশে পরই গড়ফার ওই হোটেলে হানা দেয় লালবাজার ও স্থানীয় থানার বিশেষ পুলিশ টিম। রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় বন্দি নাবালিকাকে। ঘটনাস্থল থেকেই চার হোটেল কর্মীকে হাতেনাতে পাকড়াও করে লালবাজার।
আরও পড়ুন: Akashvani Kolkata: একশো বছরেও ম্লান হয়নি ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, শতবর্ষে আকাশবাণী
ধৃতদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে গড়ফা থানা ও কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা। হোটেলের আড়ালে এর আগেও এমন চক্র চালানো হয়েছে কি না এবং এর পেছনে বড় কোনো পাচারচক্রের হাত রয়েছে কি না, তা জানতে অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। নাবালিকাটিকে উদ্ধার করে তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।


