Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুই মলাটের মধ্যে বন্দি বই আজও মানুষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী (Street Library Kolkata)। পুরোনো পাতার হলদে গন্ধ হোক কিংবা সদ্য ছাপা বইয়ের কালির সুবাস বই মানুষের ক্লান্ত মনকে আশ্রয় দেয়, ভাবতে শেখায়, থামতে শেখায়।
শহরের কোলাহলে বইয়ের ছোট ছোট আশ্রয়
কলকাতার ব্যস্ত রাস্তাঘাটের মাঝেও তাই তৈরি হয়েছে কিছু অনন্য স্ট্রিট লাইব্রেরি। জগৎ মুখার্জি পার্ক, শ্যামবাজারের উত্তরের আড্ডা কিংবা পাটুলি স্ট্রিট লাইব্রেরি এই জায়গাগুলি যেন নাগরিক জীবনের মাঝে শান্তির ছোট্ট দ্বীপ। এখানে বই পড়ার জন্য কোনও মূল্য দিতে হয় না; প্রয়োজন শুধু বইয়ের প্রতি ভালোবাসা।
সত্যরঞ্জনের হাত ধরে পার্কেই বইঘর (Street Library Kolkata)
২০১০ সালে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে জগৎ মুখার্জি পার্কে যোগ দিয়েছিলেন সত্যরঞ্জন দলুই। সবুজে সাজানো পার্কটিকে মানুষের আরও আপন করে তুলতে তাঁর মনে জন্ম নেয় একটি স্বপ্ন অবসর সময়ে মানুষ বই পড়ুক, সুস্থ আড্ডায় মেতে উঠুক। নিজের বেতন থেকে অর্থ খরচ করে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই সংগ্রহ করে তিনি গড়ে তোলেন উদ্যান-গ্রন্থাগার। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মানুষের মিলনস্থল। বইয়ের পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের সহায়তায় স্ট্রেচারের ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।

চায়ের আড্ডা থেকে ২৪ ঘণ্টার পাঠশালা (Street Library Kolkata)
উত্তর কলকাতার আড্ডার সংস্কৃতিই যেন নতুন রূপ পেয়েছে ‘উত্তরের আড্ডা’-য়। প্রাতঃভ্রমণকারীদের ভাবনা থেকে ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে শুরু হয় এই স্ট্রিট লাইব্রেরি। প্রশাসনের সহযোগিতায় তৈরি এই পাঠাগার ২৪ ঘণ্টাই খোলা। রাত আড়াইটেতেও কোনও পাঠককে সেখানে বই হাতে দেখা যায় যা প্রমাণ করে, পাঠের নেশা এখনও বেঁচে আছে।
কিশোরের ভাবনা, হাজারো বইয়ের ঠিকানা (Street Library Kolkata)
পাটুলির স্ট্রিট লাইব্রেরির গল্প আরও অনুপ্রেরণার। কোভিডের সময়ে মোবাইলমুখী হয়ে পড়া বন্ধুদের দেখে কিশোর কিংশুক হালদারের মনে হয়েছিল, বাড়ির পুরোনো বই দিয়েই যদি একটি লাইব্রেরি তৈরি করা যায়! পরিবারের সহযোগিতায় পুরোনো রেফ্রিজারেটর হয়ে ওঠে বইয়ের আলমারি। সাতশো বই দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগে এখন প্রায় সাড়ে আট হাজার বই। হালদার পরিবারের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাতেও তৈরি হয়েছে এমন বহু বিনামূল্যের গ্রন্থাগার।
বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে বই বিনিময় (Street Library Kolkata)
লেক মলের কাছে ‘লিটল ফ্রি লাইব্রেরি’ও বইকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসে। কোনও সদস্যপদ বা ফি ছাড়াই এখানে বই নেওয়া ও বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। পুরো ব্যবস্থাটিই দাঁড়িয়ে আছে পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর।
আরও পড়ুন: Taki Tourism Pollution: টাকির পর্যটনখ্যাতিতে কালো দাগ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ
বইয়ের আলোয় বাঁচুক আগামী
প্রযুক্তির যুগে বইয়ের গুরুত্ব হয়তো বদলেছে, কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। এই স্ট্রিট লাইব্রেরিগুলি মনে করিয়ে দেয় একটি বই কখনও শুধু কাগজ আর কালির সমষ্টি নয়; তা মানুষের চিন্তা, কল্পনা ও মানবিকতার দরজা খুলে দেয়। যারা বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে নিঃশব্দে তৈরি করছেন আরও সহনশীল, সচেতন ও মানবিক সমাজ। তাঁদের উদ্যোগই যেন বলে কলকাতা এখনও বেঁচে আছে, বইয়ের পাতায়, মানুষের ভালোবাসায়।



