Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালিদের আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য এবং ‘পাখণ্ডী’ শব্দ প্রয়োগকে ঘিরে বাঘেশ্বর বাবাকে নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সরব হলেন বক্তা কবি ও লেখক শিবাশিস মুখোপাধ্যায়(Shibashis Mukhopadhyay)। তাঁর বক্তব্য, বাঘেশ্বর বাবা কী বলেছেন, তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিশেষ প্রতিক্রিয়া নেই। বরং তাঁর আপত্তি অন্য জায়গায়। বক্তার দাবি, হিন্দুধর্মের বৈচিত্র্য, তার বিভিন্ন সম্প্রদায় ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে বাঘেশ্বর বাবার ধারণা অত্যন্ত সীমিত। শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব-সহ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন ধারার নিজস্ব রীতি ও বিশ্বাস রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘পাখণ্ডী’ শব্দ নিয়েও কেন উঠছে দ্বিচারিতার প্রশ্ন? (Shibashis Mukhopadhyay)
বক্তার মতে, ‘পাখণ্ডী’ শব্দের সঙ্গে ‘পাষণ্ড’ ও ‘ভণ্ড’—দুই ধরনের অর্থই যুক্ত হতে পারে। ফলে বাঙালি হিন্দুদের উদ্দেশে এই শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তাঁদের অপমান করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এখানেই তাঁর প্রশ্ন—অন্য কোনও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সামান্য রসিকতা বা কবিতাকে কেন্দ্র করে যদি ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ওঠে, মামলা-এফআইআর পর্যন্ত হয়, তাহলে এই ঘটনায় সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না কেন?
ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগ কি তবে বেছে বেছে জাগে? (Shibashis Mukhopadhyay)
বক্তার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখানেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা নিজেদের ধর্মপ্রাণ হিন্দু বলে মনে করেন, তাঁদের ভাবাবেগ কি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়? বাঘেশ্বর বাবার মন্তব্যের ক্ষেত্রে সেই প্রতিবাদ কোথায়? তাঁর দাবি, এই ঘটনায় মূলত পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিই এফআইআর করেছে। ফলে ধর্মপ্রাণ মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও কি শেষ পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকেই নিতে হবে—এই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি (Shibashis Mukhopadhyay)।

আরও পড়ুন: Avik Sarkar: বাগেশ্বর বাবাকে এবার শাস্ত্রের পাঠ পড়ালেন লেখক অভীক সরকার
বিতর্কের কেন্দ্রে এবার সরকারি আতিথ্য ও স্বীকৃতি
বক্তার মতে, বাঘেশ্বর বাবা নিজে তাঁর কাছে মূল ইস্যু নন। বরং প্রশ্ন হল, এমন মন্তব্য করা একজন ব্যক্তি কীভাবে সরকারি স্বীকৃতি ও আতিথ্য পাচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি ধর্মীয় অনুভূতির রাজনীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে, গোটা বিষয়টির মধ্যে এক ধরনের ‘মজাজনিত উদ্বেগ’ রয়েছে—যা একইসঙ্গে হাস্যকর এবং চিন্তার। তাঁর প্রশ্ন, ধর্মীয় ভাবাবেগ যদি সত্যিই সবার জন্য সমান হয়, তাহলে প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও সেই সমতা কোথায়?



