Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম, (Tarak Nath Sardar) পাড়া শেষ হলেই ধান ক্ষেত, ইলেক্ট্রিকের আলো দেখেছেন ক্লাস থ্রি -ফোরে পড়ার সময়, গ্রামে ছিল না পিচের রাস্তা-এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এশিয়ান ক্যারাটের মঞ্চে কুড়িয়েছেন বিপুল খ্যাতি। তিনি শিহান তারকনাথ সর্দার। শুধু হুগলি জেলা নয় রাজ্য তথা দেশজোড়া খ্যাতি তার। নিজের যোগ্যতায় স্পর্শ করেছেন একের পর এক মাইলফলক। এবার তার অর্জনের তালিকায় যুক্ত হল নতুন পালক।
এশিয়ান ক্যারাটে ফেডারেশনের রেফারি ও জাজেস পরীক্ষায় সম্মানের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন শিহান তারক নাথ সর্দার (Tarak Nath Sardar)। তার ৩৫ বছরের এই দীর্ঘ ক্যারাটের কেরিয়ারে এশিয়ান ক্যারাটে বিচারক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি। জাপানের আমন্ত্রণে আয়োজিত পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর ‘কাতা’ বিভাগে ‘জাজ এ’ এবং ‘কুমিতে’ বিভাগে ‘রেফারি এ’ যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি। ২৪তম সিনিয়র এশিয়ান ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হয়েছিল এশিয়ান ক্যারাটে ফেডারেশনের রেফারি ও জাজেস পরীক্ষা। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে তাঁর এই সাফল্য সামনে আসে।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ব্যক্তি (Tarak Nath Sardar)
দীর্ঘদিন ধরে ক্যারাটের সঙ্গে যুক্ত শিহান তারকনাথ সরদার (Tarak Nath Sardar) এই পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এশিয়ান ক্যারাটের বিচারকের সর্বোচ্চ যোগ্যতা পেলেন। জাপান থেকে ষষ্ঠ ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্টধারী তারকনাথ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে এই পরীক্ষায় অংশ নেন। কলকাতা বাদে পশ্চিমবঙ্গের অন্য জেলাগুলির মধ্যে তিনিই একমাত্র এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

নিজের সাফল্য প্রসঙ্গে তারকনাথ বলেন, “আমি একজন পরীক্ষার্থী ছিলাম। যেকোনও পরীক্ষায় যখন কেউ উত্তীর্ণ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই খুব ভালো লাগে। তবে আরও বেশি ভালো লাগছে এই কারণে যে, পুরো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন।”
প্রতিকূলতাই দিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার জেদ (Tarak Nath Sardar)
ক্যারাটে জীবনের দীর্ঘ পথ চলায় একাধিক বাধার মুখোমুখি (Tarak Nath Sardar) হয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে জাপানে এ-গ্রেডের জাজিং পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এলেও শেষ মুহূর্তে ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই ঘটনা তাঁকে থামিয়ে দেয়নি।
তারকনাথের কথায়, “যত বেশি বাধা এসেছে, আমি তত দ্রুত ছুটেছি।” তিনি বলেন, “ধরো যদি কেউ তোমার পা ধরে টানে, তোমাকে এগোতে না দেয়, কিংবা তোমার কোনো পরীক্ষার ফর্ম বাতিল হয়ে যায়—আমি সেই পরিস্থিতিগুলো পার করে এসেছি।” তাঁর দাবি, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েই আজ এশিয়ান ক্যারাটে বিচারকের সর্বোচ্চ যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য (Tarak Nath Sardar)
বর্তমানে তিনি ক্যারাটে সংস্থার বেঙ্গল রেফারি কমিশনের সেক্রেটারি এবং গ্লোবাল সোতোকান ক্যারাটের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না তারকনাথ। তাঁর লক্ষ্য, তাঁর সঙ্গে কাজ করা ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের আরও উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, “আমি যদি নিজে এগিয়ে না যাই, তবে ওরা কীভাবে জানবে যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব?”

ক্যারাটে কেন শেখা উচিত?
শিহানের মতে, “ক্যারাটে শুধু আত্মরক্ষা বা খেলাধুলা নয়, এটি ব্যক্তিত্বের সার্বিক বিকাশ ঘটায়। এটি আত্মবিশ্বাস, আত্মসংযম, একাগ্রতা, শৃঙ্খলা এবং শারীরিক দৃঢ়তা তৈরি করে। সুস্থ শরীর ও আত্মবিশ্বাস থাকলে জীবনে যেকোনো সাফল্য অর্জন সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সুন্দরবনের এক অত্যন্ত প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসেছি, যেখানে একসময় কাঁচা রাস্তা ছিল, বিদ্যুৎ ছিল না। সেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে আজ যদি আমি আন্তর্জাতিক ক্যারাটে বিচারক হতে পারি, বেঙ্গল ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের রেফ্রি কমিশন সেক্রেটারি ও অল ইন্ডিয়া (KIO)-র রেফ্রি কমিশন মেম্বার হতে পারি-তবে সঠিক ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো মানুষই সফল হতে পারে। সর্বশেষে এটাই বলব, সৎ পথে থেকে পরিশ্রম করে যাও, ঈশ্বর সর্বদা সাথে থাকবেন।”


