Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক এখন লিয়ো। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে টপকে গেলেন জার্মানির ক্লোজেকে (Argentina vs Austria)।
জয়ের পাশাপাশি ইতিহাস মেসির (Argentina vs Austria)
বিশ্বকাপের মঞ্চে যে কয়েকজন তারকার খেলা দেখার জন্য সব কিছু থমকে যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মেসি। মেসি ম্যাজিক দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকে গোটা বিশ্ব ফুটবল। প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে ম্যাচ জিতে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। দলের জয়ের নেপথ্য নায়ক সেই মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাঁর হ্যাটট্রিক সমস্তকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আবহেই আজ মুখোমুখি হয় অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে (Argentina vs Austria)। আর এই ম্যাচেই বিশ্ব ফুটবল সাক্ষী থাকল এক অনন্য ইতিহাসের।
‘Age is just a number’, প্রবাদটা সত্যি যাঁরা করে দেখিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মেসি। যাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে মেতে গোটা বিশ্ব ফুটবল। সময় থমকে যায় যাঁর খেলার কাছে। গ্যালারি জুড়ে তখন সৃষ্টি হয় মেসি নামক ঢেউয়ের। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই ইতিহাস রচনা করলেন ফুটবল রাজপুত্র। দলকে নক-আউট পর্বে তোলার পাশাপাশি সবথেকে বেশি গোলের মালিক এখন লিয়ো।
আরও পড়ুন: Rudranil Ghosh: “সাংস্কৃতিক জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিল এই বাজেট!” কী বললেন রুদ্রনীল
কিছু সময় ইতিহাস নিজেই নিজেকে রিপিট করে। আজকের দিনেই দাঁড়িয়ে আরেক প্রাক্তন তারকা মারাদোনার হ্যান্ড অফ গড-এর জন্ম হয়েছিল। বিতর্কিত হলেও আজও সেটা একটা অধ্যায়। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর আজ মঞ্চ তৈরি ছিল। সেই মঞ্চে মেসি এলেন দেখলেন রেকর্ডগড়লেন আর জয় ছিনিয়ে চলে গেলেন। একদিকে যদি গোটা বিশ্ব ফুটবল থাকে তাহলে অপর দিকে মেসি। আজকের ম্যাচে মেসিকে থামাতে পারেননি বিপক্ষের রক্ষণ এবং গোলকিপার।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ খেতাব জেতার আগেই নিজের নামে লিখে ফেললেন মারাদোনার উত্তরসূরি। দ্বিতীয় ম্যাচে ইতিহাস গড়ে লিয়োনেল মেসি প্রমাণ করে দিলেন কেন তিনি অন্যতম সেরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে গোল করলেন। টপকে গেলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। বিশ্বকাপে ১৮টি গোল হল মেসির। ক্লোজের ছিল ১৬টি (Argentina vs Austria)।
ম্যাচের ৯ মিনিটেই বিশ্বরেকর্ড গড়ার সুযোগ আসে মেসির কাছে । লাউতারো মার্তিনেজকে ফাউল করেন অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও পরে ভার-এর অনুরোধে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। কিন্তু সেই পেনাল্টি নিতে গিয়ে তা নষ্ট করেন মেসি। তাঁর শট পোস্টের বাইরে যায়।
এর পর কিছু ক্ষণ মেসিকে যেন অনেকটা ফিকে মনে হতে থাকে। পরের দিকে তিনি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মেসির একটি গোলমুখী শট বাঁচিয়ে দেন ডেভিড আলাবা। তবে বেশি ক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা যায়নি মেসিকে বা বলা ভাল মেসিকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। ৩৯ মিনিটে বাঁ দিক থেকে এনজো ফের্নান্দেজ়ের পাস পেয়ে গোল করেন তিনি আর এক গোলেই লিখে ফেলেন ঐতিহাসিক এই অধ্যায়।
২০০৬-এ প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে নামেন মেসি আর আজ ২০২৬। সে বারই প্রথম গোল করেন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে। ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তরুণতম গোলদাতা হন (Argentina vs Austria)।
২০১০ বিশ্বকাপ খুবই খারাপ কেটেছিল মেসির কাছে। তাঁর কাঁধে প্রত্যাশার চাপ ছিল। সেটা সামলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছিল জার্মানির কাছে। সেই বিশ্বকাপে একটিও গোল করতে পারেননি মেসি আর সেই আক্ষেপ যেন তাঁর বুকে জন্ম দেয় আগুনের আর সেই আগুনের বিস্ফোরণে এখন ছারখার হতে হচ্ছে বিপক্ষকে।
২০১৪-১৮ বিশ্বকাপে অল্পের জন্য মিস হয় তাঁর। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্বপ্ন পূরণ হয় মেসির। সাতটি গোল করে কার্যত একার হাতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনেদেন তিনি। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, প্রতিটি পর্বেই গোল করেন মেসি। গ্রুপে সৌদি আরব, মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গোল করেন। প্রি-কোয়ার্টারে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দু’টি গোল করেন।
চলতি বিশ্বকাপে মেসি প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেলেন। নজিরের গোল এল অস্ট্রিয়া ম্যাচে। বিশ্বকাপে টানা ছ’টি ম্যাচে গোল হয়ে গেল মেসির। মেসির জোড়া গোলে ২-০ গোল ব্যবধানে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে পরের পর্ব নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা (Argentina vs Austria)।


