Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন(World Suicide Prevention Day 2025)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, এটি এখন সব বয়সের মধ্যে অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ। ভারতের আত্মহত্যার হার বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে। সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে অজানা কষ্ট, কলঙ্ক আর নীরবতা।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস ২০২৫ সামনে এনেছে নতুন করে সচেতনতা, প্রাথমিক সহায়তা ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার বার্তা।
আত্মহত্যার পেছনের কারণ (World Suicide Prevention Day 2025)
ফোর্টিস এসকর্টস, নয়াদিল্লির মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পল্লবী শর্মা বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের কাজ শুধুমাত্র ডাক্তারদের নয়, বরং সমাজ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে(World Suicide Prevention Day 2025)।
- অচিকিৎসিত মানসিক অসুস্থতা: বিষণ্ণতা, আসক্তি (বিশেষত মদ্যপান) অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মূল চালক।
- তাৎক্ষণিক চাপ: অর্থনৈতিক সঙ্কট, সম্পর্ক ভাঙন, একাকিত্ব, দীর্ঘস্থায়ী রোগ ইত্যাদি বড় ভূমিকা রাখে।
- সামাজিক প্রভাব: বৈষম্য, সহিংসতা, নির্যাতন ও সামাজিক চাপ ঝুঁকি বাড়ায়।
- তরুণদের দুর্বলতা: অতিরিক্ত শিক্ষাগত চাপ, পেশাগত অনিশ্চয়তা, এবং সামাজিক মাধ্যমে বাড়তি প্রত্যাশা তরুণদের মানসিক স্থিতি নষ্ট করছে।
- সহজ আত্মহত্যার উপায়: কীটনাশকের মতো প্রাণঘাতী বস্তু সহজলভ্য হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আবেগে আত্মহত্যা ঘটে।
ডা. শর্মা সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খাইমের আত্মহত্যা তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, আজও এগোইস্টিক (একাকিত্বজনিত), অলট্রুইস্টিক (দলের জন্য আত্মত্যাগ), ও অ্যানমিক (সমাজের অস্থিরতায় প্রভাবিত) আত্মহত্যার ধরণ প্রাসঙ্গিক।
পরিবার কী সতর্কতা লক্ষ্য করবে?(World Suicide Prevention Day 2025)
ডা. শর্মার মতে, পরিবারই প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা(World Suicide Prevention Day 2025)। কিছু সাধারণ সতর্ক সংকেত হলো—
- আচরণের পরিবর্তন, হঠাৎ একা হয়ে যাওয়া বা মেজাজের ওঠানামা।
- আশাহত বা মৃত্যুর কথা বলা।
- ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিলিয়ে দেওয়া।
- হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ শুরু করা বা মাদকাসক্তি।
- পড়াশোনা বা কাজে অকারণ অবনতি।
তিনি সতর্ক করেন, “এই লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সহায়তা নেওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।”

মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা(World Suicide Prevention Day 2025)
- সঠিক ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত রুটিন বজায় রাখা।
- ক্ষতিকর মোকাবিলা পদ্ধতি (যেমন মদ্যপান) এড়িয়ে চলা।
- মেডিটেশন, যোগ, ব্যায়াম ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা।
- ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
ডা. শর্মা বলেন, “কপিং স্কিল রাতারাতি তৈরি হয় না, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যকে মজবুত করে(World Suicide Prevention Day 2025)।”
স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্র প্রতিরোধের কেন্দ্র(World Suicide Prevention Day 2025)
WHO-র পরামর্শ মেনে ডা. শর্মা বলেন, স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্র আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে(World Suicide Prevention Day 2025)।
- পরামর্শদানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
- শিক্ষক ও এইচআর পেশাদারদের ‘গেটকিপার ট্রেনিং’ দেওয়া।
- জীবন দক্ষতা (লাইফ-স্কিলস) বিষয়ক পাঠ্যক্রম চালু করা।
- নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি ও বছরে অন্তত দু’বার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা।
আরও পড়ুন : Uidai Aadhaar Card : ভোটার তালিকা সংশোধনে আধার কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি
ডাক্তার ও মিডিয়ার ভূমিকা
ডা. শর্মা বলেন, চিকিৎসকরা রুটিন চেক-আপে মানসিক স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত করলে ও রোগীদের সামনে খোলাখুলি এ বিষয়ে কথা বললে কলঙ্ক ভাঙবে।
মিডিয়া সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, “অতিরঞ্জিত বা বিশদভাবে আত্মহত্যার খবর প্রকাশ করলে ‘কপি-ক্যাট’ প্রবণতা দেখা দেয়।” WHO-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমকে উচিত—
- বেঁচে ফেরা মানুষের গল্প, মানসিক দৃঢ়তা ও পুনরুদ্ধারের উদাহরণ প্রচার করা।
- সহায়ক সংস্থার নম্বর প্রচার করা।
ডিজিটাল সহায়তার সুযোগ(World Suicide Prevention Day 2025)
কোভিড মহামারির সময়ে টেলিমেডিসিন ও অনলাইন থেরাপি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন—
- মোবাইল অ্যাপ, হেল্পলাইন ও অনলাইন কাউন্সেলিং অনেকের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
- তবে এগুলো একক সমাধান নয়। মুখোমুখি থেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করলে কার্যকর হয়।
ডা. শর্মা বলেন, “সহজ মনস্তাত্ত্বিক প্রাথমিক সহায়তা—শুনুন, সহমর্মিতা দেখান, ও পেশাদার সাহায্যের দিকে পথ দেখান—তাৎক্ষণিক সুরাহা দিতে পারে(World Suicide Prevention Day 2025)।”
আত্মহত্যা প্রতিরোধ
আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। সচেতনতা, দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সমষ্টিগত দায়বদ্ধতা জীবন বাঁচাতে পারে।
ডা. শর্মা উপসংহারে বলেন, “ডাক্তার, পরিবার, স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও মিডিয়া—সবাই মিলে যদি সহমর্মিতা গড়ে তোলে, তবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মূলধারায় আসবে। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, শক্তির প্রকাশ(World Suicide Prevention Day 2025)।”
সহায়তা
- ভন্দ্রেভালা ফাউন্ডেশন ফর মেন্টাল হেলথ: ৯৯৯৯৬৬৬৫৫৫ বা help@vandrevalafoundation.com
- টিস আইকল: ০২২-২৫৫২১১১১ (সোমবার-শনিবার, সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা)
(আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি সংকটে থাকেন, দয়া করে নিকটবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।)


