Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস (Yunus On Awami League) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সংবাদমাধ্যমে আওয়ামী লীগ (আ’লীগ)-এর বৈধতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, দল হিসেবে আ’লীগ বৈধ, তবে আপাতত তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারও সম্ভব। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি ইউনূসের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক (Yunus On Awami League)
গত মে মাসে ইউনূস (Muhammad Yunus) সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়(Yunus On Awami League)। অনলাইনে দলীয় কার্যকলাপও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পরপরই নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। অথচ এখন ইউনূসের বক্তব্য, দল হিসেবে আ’লীগ এখনও বৈধ। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি মত পরিবর্তন নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অবশ্য ইউনূসের মন্তব্যকে “শুধু তাত্ত্বিক” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচন বা নিকট ভবিষ্যতে আ’লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠবে না। বরং সরকারপক্ষ আইসিটি-তে আওয়ামী লীগকে সংগঠন হিসেবে বিচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউনূসের কঠোর ভাষা ও শর্ত (Yunus On Awami League)
মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন সহিংসতায় জড়িয়ে বহু মানুষ হত্যা করেছে (Yunus On Awami League)। কিন্তু দলটি তার দায় স্বীকার করেনি বা অনুতাপ প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, “তারা একবারও বলেনি যে দুঃখিত। বরং সব দায় চাপিয়েছে অন্যের ঘাড়ে।”
যদিও বক্তব্যের একদিকে তিনি নরম সুরে পুনর্বহালের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন, অন্যদিকে কঠোর ভাষায় আ’লীগকে অভিযুক্ত করেন। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দ্ব্যর্থক অবস্থান এবং বিএনপি-কে বার্তা দেওয়ারই ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন : DA Hike : ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
জরিপে বিএনপি এগিয়ে, আ’লীগ পিছিয়ে (Yunus On Awami League)
সম্প্রতি এক জরিপে ৩৯% উত্তরদাতা বিএনপি-কে ক্ষমতায় দেখার পক্ষে মত দেন(Yunus On Awami League)। জামাত-ই-ইসলামীর পক্ষে ২৮% এবং আ’লীগের পক্ষে মাত্র ১৮% ভোট পড়ে। এর ফলে বিএনপি আগামী নির্বাচনে সুপারমেজরিটি পেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), যারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করেছিল, তারা জরিপে ৫% সমর্থনও পায়নি।
আরও পড়ুন : Rs 100 Coin : আরএসএস শতবর্ষে বিশেষ মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ, ভারত মায়ের প্রথম ছবি উঠল মুদ্রায়
কৌশল নাকি দ্ব্যর্থক অবস্থান? (Yunus On Awami League)
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিএনপির সম্ভাব্য বিপুল জয়ের আশঙ্কায় ইউনূস আপাতত আ’লীগকে পুনর্বহালের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু আইন উপদেষ্টা ও সরকারের অন্যান্য মহল যেভাবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে এই পুনর্বহাল আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তিনি একই সঙ্গে কঠোরতা ও নমনীয়তা—দুটি পথেই হাঁটছেন। একদিকে আওয়ামী লীগের সহিংসতার দায় চাপাচ্ছেন, অন্যদিকে পুনর্বহালের সম্ভাবনা রেখেছেন খোলা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই মত পরিবর্তন, নাকি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বাউন্সার?


