Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমশ বেড়ে চলেছে উদ্বেগ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পরেই এবার সরব হলেন রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস(C V Ananda Bose)। শুক্রবার লোকভবন থেকে একটি সরকারি বিবৃতিতে তিনি বিএলওদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন দফা প্রস্তাব রাজ্য সরকারকে পাঠালেন। তাঁর দাবি, মাঠে নেমে কাজ করা বুথ লেভেল অফিসারদের সুরক্ষা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
বিএলও নিরাপত্তায় কী বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট?(C V Ananda Bose)
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এসআইআর–সম্পর্কিত মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানায়, বিএলওরা কাজের সময় কোনও নিরাপত্তাজনিত অস্বস্তি অনুভব করলে তারা যেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) দফতরে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। কোর্টের পর্যবেক্ষণ—বিএলওদের নিরাপত্তায় কমিশন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে প্রশাসনিক অরাজকতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ ৪ ডিসেম্বর সমস্ত রাজ্যকে একাধিক নির্দেশ দেয়। আদালতে এই বিষয়টি প্রথম ওঠে তামিল অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে-র আবেদনে। তাদের অভিযোগ, তামিলনাড়ুতে অতিরিক্ত কাজের চাপের ফলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও সময়সীমার চাপ বিএলওদের জীবনঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ মানতে চায়নি। কমিশনের বক্তব্য—যথাযথ প্রমাণ নেই।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট জানায়, এসআইআর-এর কাজে যদি ১০ হাজার বিএলও নিয়োগ করা যায়, তা হলে আরও ৩০ হাজার নিয়োগ করে চাপ ভাগ করে দেওয়া কঠিন কাজ নয়। কোর্টের মতে, কর্মী নিয়োগ বাড়ালে বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, কাজের মান বাড়বে এবং মৃত্যুঝুঁকি থেকে তারা মুক্ত হবেন।
আরও পড়ুন: Chingrighata Metro: চিংড়িহাটা মেট্রো-জট কাটাতে বৈঠকের নির্দেশ, আলোচনার দিনক্ষণ বেঁধে দিল হাইকোর্ট
তাৎপর্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ রাজ্যপালের(C V Ananda Bose)
এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যপালের(C V Ananda Bose) হস্তক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। লোকভবনের বিবৃতিতে তিনি জানান, বিএলওরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ। তাঁদের নিরাপত্তা, মাঠপর্যায়ের সহায়তা এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করা এখন সময়ের দাবি। রাজ্যকে পাঠানো তাঁর তিন দফা প্রস্তাবের মধ্য রয়েছে—
- বিএলওদের জন্য জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন
- অভিযোগ এবং সাহায্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনের ব্যবস্থা
- অতিরিক্ত দায়িত্ব কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী নিয়োগ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর রাজ্যপালের এই সক্রিয়তা আগামী দিনে নির্বাচন প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে আনবে। বিএলওদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কী পদক্ষেপ নেয় রাজ্য সরকার—এখন সেদিকেই নজর।
আরও পড়ুন: Congress: গীতাপাঠের পাল্টা কর্মসূচি কংগ্রেসের, ‘সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠে’র ঘোষণা


